বাংলাদেশ ডেস্ক
সীমান্তে চোরাচালান, মাদক ও মানবপাচার, পুশ-ইন এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তিনি দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবির ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। সাক্ষাৎ শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
সাক্ষাৎকালে বিজিবি মহাপরিচালক বাহিনীর সার্বিক কর্মকাণ্ড এবং সীমান্তে নজরদারি জোরদার করার অংশ হিসেবে অত্যাধুনিক ড্রোন ও প্রযুক্তি সংযুক্তির বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কার্যক্রম রোধে বিজিবির অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকার কথা স্মরণ করেন এবং বাহিনীতে আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের এই পদক্ষেপকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন। দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও প্রদান করেন তিনি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারতের দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচার, চোরাচালান এবং বিভিন্ন সীমান্ত সহিংসতার মতো জটিল সমস্যাগুলো বিদ্যমান রয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত হত্যা ও অবৈধ অনুপ্রবেশের মতো বিষয়গুলো দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে একটি স্পর্শকাতর ও আলোচিত ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এসব প্রেক্ষাপটে সীমান্ত সুরক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করার ওপর দীর্ঘদিন ধরে জোর দিয়ে আসছেন সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু জনবল বৃদ্ধি নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ও ড্রোন ব্যবহারের মতো পদক্ষেপগুলো সীমান্ত অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। রাষ্ট্রপতির এই নির্দেশনা এবং বিজিবির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সীমান্তবর্তী এলাকায় অপরাধ প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিবগণসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


