হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাম্প্রতিক হামলার চেষ্টার জবাবে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) নির্দেশনায় পরিচালিত এই অভিযানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক সামরিক সরঞ্জাম ও যোগাযোগ অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। এর জবাবে জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক শহরে মার্কিন হামলায় একটি আবাসিক ভবনে ধ্বংসাবশেষ পড়ে শিশুসহ পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং অর্ধশতিকার বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এই হামলার প্রতিশোধ হিসেবে জর্ডানের আকাবায় মার্কিন ঘাঁটিসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন অবস্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় আইআরজিসি। জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ইরানের বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। এছাড়া কুয়েত ও বাহরাইনেও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি করলেও ইরান জানিয়েছে, পারস্য উপসাগর থেকে তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হলে অন্য কোনো দেশের পক্ষেও তা সম্ভব হবে না। বর্তমান পরিস্থিতি নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগের ঘাটতি এবং উভয় পক্ষের অনমনীয় অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ঝুঁকি আরও গভীর হয়েছে।
আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ