জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট নিরসনে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট নিরসনে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক
দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান এবং আমদানি নির্ভরতার কারণে সৃষ্ট বর্তমান জ্বালানি সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে বর্তমান সরকার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে তৈরি করা ত্রুটিপূর্ণ পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের জ্বালানি খাতকে অকার্যকর করে রাখা হয়েছিল। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
আজ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে স্পিকার মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয় এবং নিয়মানুযায়ী প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে সরকারপ্রধান জানান, জাতীয় গ্রিডে জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে ১৫০টি নতুন কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৩০টি কূপ খননের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যার মাধ্যমে দৈনিক ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে আরও ৭টি কূপ খনন কাজ চলমান রয়েছে এবং এগুলো শেষ হলে অতিরিক্ত ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বাকি কূপগুলোর খনন কাজও পর্যায়ক্রমে প্রকল্পের আওতায় সম্পন্ন করা হবে।
নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ভূখণ্ডে প্রাকৃতিক গ্যাসের নতুন উৎস সন্ধানের জন্য ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার টু-ডি সিসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার থ্রি-ডি সিসমিক সার্ভে পরিচালনার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় জ্বালানি অনুসন্ধান প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (বাপেক্স) আরও শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে নতুন দুটি আধুনিক রিগ ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া, সম্প্রতি অফশোর মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) ২০২৬ অনুমোদিত হয়েছে এবং এর ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদন প্রক্রিয়াও বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
অফশোর ও অনশোর এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধানে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেলে দেশের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে গভীর সমুদ্রে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বর্তমানে আলোচনা চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ওই টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে পায়রা অথবা মোংলা বন্দর সংলগ্ন সমুদ্র উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে আরও এক বা দুটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত এসব টার্মিনাল বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও নিরাপদ ও গতিশীল হবে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ