আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে দেশটির মুদ্রায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সংবলিত নতুন একটি স্মারক মুদ্রা বাজারে ছাড়া হয়েছে। গত প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে এই প্রথম কোনো জীবিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের ছবি দেশটির কোনো মুদ্রায় ব্যবহার করা হলো। মার্কিন টাকশালের তথ্য অনুযায়ী, এক ডলারের এই বিশেষ স্মারক মুদ্রাটির সামনের অংশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতি খোদাই করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে প্রথাগত শ্লোগান ‘আমরা ঈশ্বরে বিশ্বাস করি’ খোদাই করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই ঐতিহাসিক জাতীয় মাইলফলক উদ্যাপনের অংশ হিসেবে মুদ্রাটি তৈরি করা হয়েছে বলে মার্কিন টাকশাল জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্যমতে, বিশেষ এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর নকশার মুদ্রাটি ভবিষ্যতে সংগ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হয়ে উঠতে পারে। মুদ্রাটির নকশায় দেশটির চেতনা, গর্ব ও ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। সংগ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত করার পর থেকেই এগুলোর প্রতি ব্যাপক চাহিদা লক্ষ করা গেছে। বিক্রি শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন টাকশালের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে মুদ্রাগুলো ‘বর্তমানে মজুদ নেই’ বলে স্ট্যাটাস প্রদর্শিত হয়। আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি মুদ্রাটি মূলত সংগ্রহযোগ্য স্মারক হিসেবে বাজারে ছাড়া হয়েছে। এর বাণিজ্যিক মূল্যের ক্ষেত্রে ২৫টি মুদ্রার একটি রোলের দাম ৬১ ডলার এবং ১০০টি মুদ্রার একটি ব্যাগের দাম ১৫৪ ডলার ৫০ সেন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি ব্যবহার করে নতুন ২৫০ ডলারের কাগুজে নোট ছাপারও পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কাগুজে নোটে ট্রাম্পের ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বড় আইনি বাধা রয়েছে। মার্কিন ফেডারেল আইন অনুযায়ী, সাধারণত জীবিত কোনো ব্যক্তির ছবি দিয়ে দেশটির প্রচলিত কাগুজে নোট বা কারেন্সি ছাপানো নিষিদ্ধ। এই আইনি জটিলতা কাটাতে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও আইনপ্রণেতারা কংগ্রেসে নতুন একটি বিল পাশের উদ্যোগ নিয়েছেন, যা পাস হলে এই নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যতিক্রম রাখা সম্ভব হবে। তবে প্রস্তাবিত এই আইনটি এখনো মার্কিন কংগ্রেসে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আটকে রয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঐতিহাসিক প্রবিধানের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়েছে, এর আগেও জীবিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট দেশটির মুদ্রায় স্থান পাওয়ার নজির রয়েছে। সুদূর ১৯২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনের সময় একটি অর্ধ-ডলারের স্মারক মুদ্রা প্রকাশ করা হয়েছিল, যেটিতে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজের ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে জীবিত কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের ছবি দেশটির কোনো মুদ্রায় ব্যবহারের আর কোনো নজির দেখা যায়নি। সেই হিসাবে প্রায় এক শতাব্দী বা শতবর্ষ পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি মুদ্রায় স্থান পাওয়ার এই ঘটনাটি ঘটল।
পাশাপাশি, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে প্রণীত ‘চলমান সংগ্রহযোগ্য মুদ্রা পুনঃ নকশা আইন’-এর কার্যকারিতাও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছে। ওই আইনের বিধান অনুযায়ী মুদ্রার পেছনের অংশে কোনো জীবিত ব্যক্তির ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, সামনের অংশে জীবিত ব্যক্তির ছবি ব্যবহারের বিষয়ে আইনে সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা বা বাধা নেই। নতুন প্রকাশিত এক ডলারের স্মারক মুদ্রায় ট্রাম্পের ছবি মুদ্রার সামনের অংশে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে প্রশাসনের আইনগত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই নকশাটি বর্তমান বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়।
অন্যদিকে, ১৮৬৬ সালের থেয়ার সংশোধনী অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত কাগুজে নোটে জীবিত ব্যক্তির ছবি ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে প্রচলিত আইনি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞা কাগুজে নোটের জন্য প্রযোজ্য হলেও ধাতব স্মারক মুদ্রার ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে। সে কারণেই ছবিসংবলিত এক ডলারের স্মারক মুদ্রা প্রকাশে বড় কোনো আইনি বাধা সৃষ্টি হয়নি। তবে ভবিষ্যতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি ব্যবহার করে ২৫০ ডলারের মূল্যমানের কাগুজে নোট ছাপার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে কংগ্রেসের মাধ্যমে আলাদা আইনি অনুমোদন ও সংশোধনী প্রয়োজন হবে।


