অপরাধ ডেস্ক
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার বিচার কার্যক্রম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিজস্ব কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, এই মামলার মোট আসামির সংখ্যা ৪১ জন। এর মধ্যে বর্তমানে ১১ জন আসামি কারাগারে আটক রয়েছেন এবং বাকি ৩০ জন পলাতক আছেন। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে পূর্বে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলেও তাদের নিজ নিজ ঠিকানায় খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতিতে আইনি প্রক্রিয়া বজায় রাখতে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরপরই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকার্য শুরু হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মামলার গুরুত্ব তুলে ধরে মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন সব মামলাই গুরুত্বপূর্ণ, তবে শাপলা চত্বরের সংঘটিত ঘটনাটিকে একটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০১৩ সালের ওই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এই হত্যাকাণ্ডকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময় বিভ্রান্তিকর প্রচার চালিয়েছিল। তবে দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ ও সাধারণ জনগণের দীর্ঘদিনের সুনির্দিষ্ট গণদাবি রয়েছে এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার। জনগণের এই ন্যায়সংগত দাবির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা জানিয়ে ট্রাইব্যুনাল দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মৃত্যুর ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও সংবেদনশীল একটি অধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে এই ঘটনার বিচার নিয়ে নানা বিতর্ক ও রাজনৈতিক আলোচনা চলে আসছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই মামলার কার্যক্রম গতিশীল হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় থাকা ভুক্তভোগী পরিবার ও সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে। মামলার বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হলে এটি দেশের বিচার ব্যবস্থার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের জমে থাকা ঐতিহাসিক ক্ষোভ নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


