দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়, সবাই সমান অধিকার নিয়ে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিক: প্রধানমন্ত্রী

দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়, সবাই সমান অধিকার নিয়ে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিক: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক
এ দেশে কেউ সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়, সবাই সমান অধিকার নিয়ে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি সবাইকে বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে নিজেদের কেবল বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দেওয়ার এবং তা ধারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পুরোহিত ও সেবায়েতদের মাঝে সম্মানি ও ভাতা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। সরকারের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে ৯ জন সেবায়েত ও পুরোহিতের হাতে সরাসরি ভাতা তুলে দেওয়া হয় এবং একই সঙ্গে সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আরও ৬৪ জন সেবায়েত ও পুরোহিতকে এই ভাতার আওতায় আনা হয়।
সামাজিক সম্প্রীতি ও দেশের সার্বিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।’ বর্তমান রাষ্ট্র ও সমাজের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক সহাবস্থান এবং সমানাধিকার। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহিষ্ণুতা বজায় রাখতে দেশের সকল নাগরিককে দলমত ও ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ দেশে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষের ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাংবিধানিক ও সামাজিক অধিকার সমান।
সাম্প্রতিক দেশীয় পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, একটি বিশেষ মহল দেশকে অস্থিতিশীল ও অকার্যকর করার অসৎ উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে চলেছে। তিনি এসব অপপ্রচারের বিষয়ে দেশবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক ও সজাগ থাকার পরামর্শ দেন। জনগণের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি এবং ভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নের যেকোনো চক্রান্ত কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলে জানান তিনি।
বিগত রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, অতীতে দীর্ঘ সময় ধরে জনগণের সব ধরনের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে এক ধরনের নিষ্ঠুর শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলন এবং হাজারো মানুষের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে সেই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পতন ঘটিয়েছে এ দেশের মুক্তিকামী জনগণ।
জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী জাতীয় পুনর্গঠন প্রসঙ্গে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশে এখন মূল লক্ষ্য হলো দেশের অর্থনীতি, সামাজিক কাঠামো এবং ভেঙে পড়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতি সাধন করা। দীর্ঘদিনের অপশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল রাষ্ট্র গঠনে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই লক্ষ্য অর্জনে দল, মত, ধর্ম ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ