সারাদেশ ডেস্ক
শরীয়তপুর শহরের ঢাকা–শরীয়তপুর সড়কে অবস্থিত একটি বহুতল আবাসিক হোটেলের নিচতলার পার্কিংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় পার্কিংয়ে থাকা ১২টি মোটরসাইকেল ও একটি ব্যক্তিগত গাড়ি (কার) সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। তবে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে ও ছাদে আটকে পড়া ১৭ জন বাসিন্দাকে অক্ষত অবস্থায় নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় হতাহতের বড় কোনো খবর পাওয়া যায়নি, তবে উদ্ধারকাজে সহায়তাকারী কয়েকজন সামান্য আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়–সংলগ্ন নুর হোটেল ইন্টারন্যাশনালের ছয়তলা ভবনের নিচতলার পার্কিং এলাকায় আকস্মিকভাবে আগুন লাগে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পার্কিংয়ে রাখা একটি কারের চাকা বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পরপরই গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডারের সংযোগ বা লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন পার্কিং এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। আগুনের তীব্রতা ও ধোঁয়ার কারণে নিচতলার মূল যাতায়াত পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হোটেলের ভেতরে থাকা ১৭ জন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং জীবন বাঁচাতে দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে ভবনের ছাদে গিয়ে আশ্রয় নেন।
ঘটনার আকস্মিকতায় আশপাশের এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং নিজ উদ্যোগে প্রাথমিক পর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও থানায় খবর দেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শরীয়তপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের দুটি সুসজ্জিত ইউনিট এবং স্থানীয় থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ ও আগুন নেভানোর অভিযান শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের প্রায় এক ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। এর মধ্যেই ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় সিঁড়ি দিয়ে ভবনের ছাদে আটকে থাকা ১৭ জনকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনা হয়।
প্রাথমিক তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণের ভিত্তিতে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, পার্কিংয়ে থাকা ওই ব্যক্তিগত গাড়ির সিলিন্ডার বা বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। অগ্নিকাণ্ডে পার্কিং এলাকায় থাকা ১২টি মোটরসাইকেল ও ১টি কার পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও ফায়ার সার্ভিসের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপে আগুন ওপরের আবাসিক তলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। ফলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডে ভবনের নিচতলার অবকাঠামো এবং পার্কিং এলাকার বেশ ক্ষতি হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট আর্থিক পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে শরীয়তপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিদর্শক শংকর বিশ্বাস গণমাধ্যমকে জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া মাত্রই তাদের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পার্কিংয়ে থাকা গাড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ ও প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কাজ চলছে।
এদিকে পালং মডেল থানার উপপরিদর্শক সুধাংশু সরকার জানান, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ দলের তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ভবনে আটকে পড়া ব্যক্তিদের নিরাপদে উদ্ধারের সময় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও উদ্ধারকর্মীদের মধ্য থেকে চার-পাঁচজন সামান্য আহত হন। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এ ধরনের বহুতল বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নি নিরাপত্তাব্যবস্থা ও পার্কিং এলাকায় পর্যাপ্ত সুরক্ষা বিধিমালা সঠিকভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।


