শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর: মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন

শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর: মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন

রাজধানী ডেস্ক
সমাজে যার যা অর্জন, তার যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হলে অনেক সামাজিক সমস্যার সমাধান সহজ হয়ে যায়। সমাজে বিদ্যমান সবকিছুর ক্ষেত্রে ‘আমি’র পরিবর্তে আন্তরিকভাবে ‘আমরা’ শব্দটি ধারণ ও ব্যবহার করতে পারলে রাষ্ট্র ও সমাজ আরও সুন্দর এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে উঠবে। শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)-এর দশম দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এসব কথা বলেন।
সম্মেলনে স্বাগত ও সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন বিলসের প্রতিষ্ঠাতা ও মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন এবং সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। দেশের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষা, কর্মপরিবেশের উন্নয়ন এবং সার্বিক কল্যাণ সাধনের লক্ষ্যে আয়োজিত এই সম্মেলনে শ্রম খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যেখানে সমাজের সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের অধিকার ও মর্যাদা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে। সমাজে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষই কোনো না কোনোভাবে শ্রমিক, কেবল তাদের শ্রমের ধরন ও কাজের ক্ষেত্র ভিন্ন। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের এই অবদানকে কোনোভাবেই অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের প্রসঙ্গে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, প্রান্তিক শ্রমিক, অসহায় ও দুস্থ মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার থেকে বর্তমান সরকার দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং তারা অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন বলেন, ন্যায্য মজুরি কোনো করুণা নয়, এটি শ্রমিকের মৌলিক অধিকার ও নায্য প্রাপ্য। সাড়ে সাত কোটি শ্রমজীবী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আস্থায় নির্বাচিত বর্তমান সরকার তাদের সার্বিক কল্যাণ ও অধিকার নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। টেকসই শিল্পায়ন ও একটি সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে শ্রমিক, মালিক এবং সরকারের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা এবং নিয়মিত ত্রিপক্ষীয় সংলাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন বক্তা ও প্রতিনিধিরা দেশের শ্রম খাতের সংস্কার নিয়ে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন। তারা বর্তমান শ্রম আইনে প্রয়োজনীয় সংস্কার এনে সব খাতের শ্রমিকের আইনি স্বীকৃতি, প্রাতিষ্ঠানিক নিবন্ধন এবং পূর্ণাঙ্গ সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে শ্রমিকদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের উপযোগী ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ, কর্মক্ষেত্রে সম-অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। এছাড়া যেকোনো মূল্যে শিশুশ্রম সম্পূর্ণ বন্ধে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা।
সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধান অতিথি অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম খান লাইব্রেরি ও বিলস তথ্যকেন্দ্র’ উদ্বোধন করেন। এই তথ্যকেন্দ্র ও লাইব্রেরিটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আন্দোলন, গবেষণা এবং শ্রমিক সংক্রান্ত তথ্যাদি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন। সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শ্রমিক প্রতিনিধি, গবেষক, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ