জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের অব্যবস্থাপনায় বিমান মন্ত্রীর ক্ষোভ প্রকাশ

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের অব্যবস্থাপনায় বিমান মন্ত্রীর ক্ষোভ প্রকাশ

বাংলাদেশ ডেস্ক
জামালপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় সার্বিক পরিস্থিতি ও চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। শনিবার বিকেলে হাসপাতালটি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বর্তমান অব্যবস্থাপনা এবং বিগত সরকারের আমলের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী জানান, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলেই জামালপুরে একটি ৫শ শয্যার হাসপাতালের টেন্ডার হয়েছিল এবং কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তৎকালীন একজন প্রতিমন্ত্রী ও ঠিকাদারের মধ্যে যথাযথ সমন্বয়হীনতা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের দ্বন্দ্বের কারণে সেই গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। জনকল্যাণমূলক এই কাজ বন্ধ রাখাকে অমানবিক ও নিকৃষ্ট মানসিকতার পরিচায়ক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলের রেখে যাওয়া জনদুর্ভোগের বাস্তব চিত্র এই হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা দেখলে স্পষ্ট বোঝা যায়।
মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, এমন বেহাল দশা ও অবহেলাপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র তিনি এর আগে কখনো দেখেননি। জামালপুরের একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে এই পরিস্থিতি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি বর্তমান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি অথবা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের অনিয়মের ভূত এখনো ধরে রাখারই ফল।
এর আগে মন্ত্রী দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে অপরিকল্পিতভাবে অনেক বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপন করা হলেও সেগুলোর দীর্ঘমেয়াদী টেকসই কার্যক্রম বা জ্বালানি ব্যবস্থাপনার কোনো সঠিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। প্লান্টগুলোর মেয়াদ শেষ হলে তা কীভাবে চলবে সে বিষয়েও কোনো দিকনির্দেশনা ছিল না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ লাইন বাতিল করার ফলে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। এই লাইন বাতিল করা না হলে বর্তমানে বিদ্যুতের সমস্যা কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে থাকত।
বর্তমান সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে একটি বিশেষ সেল গঠন করেছেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনসহ জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের তড়িৎ নির্দেশনা দিয়েছেন। কারণ পর্যাপ্ত এলএনজি আমদানি করা সম্ভব হলেও যথাযথ টার্মিনাল না থাকায় তা খালাস করা সম্ভব হচ্ছিল না। বিগত সরকার দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ভঙ্গুর এই রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আশা করা যায়, আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটসহ সকল জাতীয় সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হবে।
হাসপাতাল পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী ও জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক, সিভিল সার্জন ডা. আজিজুল হক, জামালপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাফজুর রহমান সোহান, জামালপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শামীম আহমেদ এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মিয়াসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ