মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর হস্তে মাদক নির্মূল করতে হবে। যেখানেই মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের পাওয়া যাবে, তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
শনিবার বিকেলে মধুপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত)’ কর্মসূচির আওতায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি, স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের সাইকেল এবং আয়বর্ধক কাজের জন্য সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যুবসমাজকে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি কর্মমুখী করে তুলতে দেশব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কয়েক মাসের মধ্যেই মধুপুরে এআই ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যা স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করবে।
তরুণ প্রজন্মের আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী আরও বলেন, মাতৃভাষার পাশাপাশি যুবকদের ইংরেজি, চাইনিজ ও জাপানি ভাষা শিখতে হবে। বিশেষ করে জাপান ও চীনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কর্মীদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাদের ভাষা শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক চর্চা আরও গতিশীল করতে এলাকায় একটি কালচারাল সেন্টার নির্মাণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. শামসুজ্জামান সুরুজ, মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আজিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন, মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ, পৌর বিএনপির সভাপতি খুররম খান ইউসুফজাই প্রিন্স, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালিব হোসেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সরকারের এই উন্নয়ন সহায়তা কার্যক্রমের ফলে স্থানীয় মেধাবী শিক্ষার্থী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।


