রাজধানী ডেস্ক
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার খেয়ে বিভিন্ন শ্রেণির ১১ জন শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে তাদের দ্রুত উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও মানহীন খাবার বিতরণের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট খাদ্য সরবরাহকারী বেসরকারি সংস্থাকে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রোববার দুপুরে বিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিম ও পাউরুটির প্যাকেটজাত খাবার বিতরণ করা হয়। খাবার গ্রহণের পর পরই দুপুর পৌনে দুইটার দিকে শিক্ষার্থীরা অসুস্থতা বোধ করতে শুরু করে। অসুস্থ হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুজন ছাত্র এবং নয়জন ছাত্রী রয়েছে। এদের মধ্যে পঞ্চম শ্রেণির দুজন, চতুর্থ শ্রেণির ছয়জন এবং তৃতীয় শ্রেণির তিনজন শিক্ষার্থী রয়েছে।
এ ঘটনার পরপরই প্রশাসনের টনক নড়ে এবং তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত খাদ্য সরবরাহকারী বেসরকারি সংস্থা ‘গ্রাম উন্নয়ন কর্ম’ (গাক)-এর স্থানীয় গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ওই গোডাউন থেকে মেয়াদ বা উৎপাদন তারিখ উল্লেখবিহীন বেশ কিছু খাদ্যপণ্যের প্যাকেট জব্দ করা হয়। এছাড়াও গোডাউনের অভ্যন্তরে পয়োনিষ্কাশনের একটি পাইপ খোলা অবস্থায় পাওয়া যায়, যা সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর ও জনস্বাস্থ্যবিরোধী পরিবেশের প্রমাণ দেয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারার বিধান অনুযায়ী অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার দায়ে ওই প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন। পরে সংস্থার এরিয়া ম্যানেজার ফিরোজ হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসাধীন শিশুদের মূল সমস্যা ছিল তীব্র পেটে ব্যথা। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার জানান, শিশুদের সুচিকিৎসার জন্য নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং বর্তমানে তারা সবাই আশঙ্কামুক্ত। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের ধারণা, এটি খাদ্যে বিষক্রিয়া বা ফুড পয়জনিংয়ের কারণে হতে পারে।
ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, বিভাগীয় কমিশনার মহোদয়ের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কমিটি তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার নেপথ্যে থাকা দায়িত্বশীলদের চিহ্নিত করবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে শিশু শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে এ ধরনের ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হলেও মান নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির অভাবে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, কোমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এই ধরনের খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত মান যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।


