জাতীয় ডেস্ক
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার তিনটি আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন—মৈত্রী, বন্ধন এবং মিতালী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে রাজধানীতে দুই দিনব্যাপী বার্ষিক আন্তঃসরকারি রেলওয়ে বৈঠক (আইজিআরএম) শুরু হয়েছে। এই বৈঠকের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আগামী মাস থেকেই কলকাতা ও নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ট্রেনগুলোর চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারত ও বাংলাদেশের রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যকার এই বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় ফোরামে আন্তঃসীমান্ত ট্রেন পরিচালনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পণ্য পরিবহন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়ে থাকে। ২০২৪ সালে সেবা স্থগিত হওয়ার পর এই প্রথমবার আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসছে। এর আগের বৈঠকটি গত বছর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে বিভিন্ন রুট নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। এর মধ্যে রয়েছে গেদে-দর্শনা সীমান্ত দিয়ে কলকাতা ও ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেস, পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে কলকাতা ও খুলনার মাঝে চলাচলকারী বন্ধন এক্সপ্রেস এবং হলদিবাড়ি-চিলাহাটি সীমান্ত দিয়ে নিউ জলপাইগুড়ি ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে চলাচলকারী মিতালী এক্সপ্রেস। পাশাপাশি, বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে রাজশাহী থেকে কলকাতা পর্যন্ত সম্পূর্ণ নতুন একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর নতুন প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হতে পারে। এছাড়া মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে পদ্মা সেতু হয়ে পরিচালনার বিষয়েও প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে।
বর্তমান বৈঠকে শুধু যাত্রীবাহী ট্রেন চালুই নয়, বরং উভয় দেশের স্থগিত থাকা বিভিন্ন রেল প্রকল্প এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা চলছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকার কমলাপুর থেকে গাজীপুরের জয়দেবপুর পর্যন্ত দুটি নতুন রেললাইন নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও কথা হচ্ছে। দুই দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ২০০টি নতুন ব্রডগেজ এলএইচবি কোচ সরবরাহ করবে। এরই ধারাবাহিকতায় ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পের আওতায় ১৯টি কোচের প্রথম রেকটি পাঞ্জাবের কাপুরথালা রেল কোচ ফ্যাক্টরি থেকে ইতিমধ্যে প্রস্তুত করে পাঠানো হয়েছে। এই কোচগুলো ২০২৬ সালের জুন মাস থেকেই রেলবহরে যুক্ত হতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ট্রেনগুলো পুনরায় চালু হলে দুই দেশের মধ্যকার যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে এবং সহজে যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ও মৈত্রীমূলক সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


