ঔপনিবেশিক আমলে সংগৃহীত নাগা জনগোষ্ঠীর ৩৯ মানুষের দেহাবশেষ ফেরত দিচ্ছে যুক্তরাজ্য

ঔপনিবেশিক আমলে সংগৃহীত নাগা জনগোষ্ঠীর ৩৯ মানুষের দেহাবশেষ ফেরত দিচ্ছে যুক্তরাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে উত্তর-পূর্ব ভারতের নাগা অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়া ৩৯ জন মানুষের দেহাবশেষ নাগা সম্প্রদায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। সোমবার অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পিট রিভার্স মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করে। ঔপনিবেশিক আমলের বিভিন্ন প্রত্নবস্তু ও মানব অবশেষ নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ‘ফোরাম ফর নাগা রিকনসিলিয়েশন’ (এফএনআর)-এর পক্ষ থেকে জমা দেওয়া আনুষ্ঠানিক আবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই দেহাবশেষগুলো হস্তান্তরের অনুমোদন দেয়। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সংগ্রাহকরা নাগা জনপদ থেকে এসব মানব দেহাবশেষ সংগ্রহ করে যুক্তরাজ্য নিয়ে গিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে এগুলো অক্সফোর্ডের বিভিন্ন সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত ছিল, যার একটি অংশ ২০২০ সাল পর্যন্ত জাদুঘরে দর্শনার্থীদের প্রদর্শনের জন্যও রাখা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে নাগা সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ঐতিহাসিক ও মানবিক কারণে এসব অবশেষ ফিরিয়ে দেওয়ার জোরালো দাবি উত্থাপন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনায় মোট ৪০টি মানব অবশেষের আবেদন যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ৩৯টি অবশেষ নিশ্চিতভাবে নাগা সম্প্রদায়ের পূর্বপুরুষদের বলে শনাক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলোর প্রত্যাবাসনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নাগা প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট জাদুঘর কর্তৃপক্ষের মধ্যে এক যৌথ আলোচনার মাধ্যমে দেহাবশেষগুলো হস্তান্তরের সুনির্দিষ্ট তারিখ ও প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। নাগা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য ও মর্যাদাপূর্ণ প্রথার মাধ্যমেই এই হস্তান্তর সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নাগা সংগঠনগুলো যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি কেবল কিছু হাড় বা মানব অবশেষের ভৌগোলিক স্থানান্তর নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের ঔপনিবেশিক অন্যায় প্রতিকার এবং ঐতিহাসিক স্মৃতি ও আত্মপরিচয়ের নিজ ভূমিতে ফিরে আসার একটি অর্থবহ ঐতিহাসিক মুহূর্ত। বিগত বছরগুলোতে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে ঔপনিবেশিক যুগে বলপূর্বক বা জবরদস্তিমূলকভাবে সংগৃহীত সাংস্কৃতিক সম্পদ, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং মানব দেহাবশেষ আদিবাসী ও সংশ্লিষ্ট দেশের কাছে ফেরত দেওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে ঔপনিবেশিক আমলের মানব অবশেষ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ