রাজনীতি ডেস্ক
জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে কোনো রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা না করে একটি মাফিয়া গ্যাং হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলটিকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া উচিত হবে না।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবস্থান এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে এসব কথা বলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক নানা ঘটনার প্রেক্ষাপট, আইনি প্রক্রিয়া এবং কূটনৈতিক নানা বিষয়ের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পরবর্তীতে গত ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরও সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। ‘ফ্যাসিবাদী’ দল হিসেবে চিহ্নিত করে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের সুযোগ না দেওয়ার পক্ষে শুরু থেকেই জোরালো অবস্থান বজায় রেখেছেন জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
এদিকে, সম্প্রতি আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ সংক্রান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতে অবস্থানরত দলটির সভাপতি শেখ হাসিনার একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা এবং দলটির পুনর্গঠন নিয়ে বিভিন্ন মহলের নানামুখী অনুমানের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে সরকারের অবস্থানে কোনো ধরনের দ্বিধা বা শৈথিল্য নেই।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম ও আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী পলাতক আসামি হিসেবে শেখ হাসিনার আপিল করার সুযোগ সীমিত। ফলে দেশে ফেরার পর বিচার প্রক্রিয়ায় তার আইনি অবস্থানের বিষয়টিও আইনগত কাঠামোর মধ্যেই নির্ধারিত হবে। সরকার তাকে সাজা কার্যকর করার জন্য আইনানুগ উপায়ে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
অন্যদিকে, ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার ধারাবাহিক গণমাধ্যম সাক্ষাৎকার ও রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদানকে অপ্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ভারতের মাটিতে বসে এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা বক্তব্য দেওয়া থেকে তাকে বিরত রাখতে হবে। এ বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।
ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারত চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে শেখ হাসিনার গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ বন্ধ করার মাধ্যমে একটি ইতিবাচক বার্তা দিতে পারত। বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের এই বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত বলে মনে করে সরকার।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে আসা এই স্পষ্ট বার্তা দ্বিপক্ষীয় কূটনীতি ও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণ চুক্তি বাস্তবায়ন এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলাতে এই কূটনৈতিক অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


