সম্প্রীতি বিনষ্টে চক্রান্ত চলছে, তা রুখে দিতে হবে: রুহুল কবীর রিজভী

সম্প্রীতি বিনষ্টে চক্রান্ত চলছে, তা রুখে দিতে হবে: রুহুল কবীর রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে বিভিন্ন অপশক্তি ও চক্রান্তকারীরা নানা ধরনের অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শত চক্রান্ত সত্ত্ব্বেও এ দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের অটুট সম্প্রীতির বন্ধন কোনোভাবেই ছিন্ন করা সম্ভব নয় এবং এটি যুগ যুগ ধরে অক্ষুণ্ণ থাকবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজার প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বিএনপির শীর্ষ এই নেতা দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রয়াত নেতার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে রুহুল কবীর রিজভী দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের পারস্পরিক সহাবস্থানের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করে আসছে এবং উৎসবের সময় একে অপরের আনন্দ ভাগ করে নেয়। এ দেশের মানুষ পারস্পরিক ধর্মীয় উৎসবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে, যা বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। এই সামাজিক সৌহার্দ্য ও মেলবন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে অতীতে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
ধর্মীয় উপাসনালয়ের উন্নয়ন ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কল্যাণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ইতিপূর্বে তিন ধর্মের কল্যাণে তিনটি পৃথক ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছিল। এই ট্রাস্টগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনালয়গুলোকে আরও সমৃদ্ধ করা এবং সেগুলোর সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করা। এই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগুলো কার্যকরভাবে পরিচালিত হলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্প্রীতি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশি জাতীয় ধারণার কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি হলো দেশের সকল নাগরিকের সমঅধিকার ও সমান অংশগ্রহণ। এই মতাদর্শের আলোকে দেশের প্রতিটি সম্প্রদায়ের মানুষ একটিমাত্র জাতীয় ছায়াতলের নিচে ঐক্যবদ্ধভাবে বসবাস করে আসছে। ভবিষ্যতে গঠিত বা পরিচালিত ট্রাস্টগুলো প্রতিটি সম্প্রদায়ের মৌলিক স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের অধিকার সুরক্ষায় যথাযথ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। দেশের সার্বিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে সকল চক্রান্তের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ