শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২৫ জানুয়ারি দাখিলের জন্য ধার্য

শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২৫ জানুয়ারি দাখিলের জন্য ধার্য

ডেস্ক

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন।

আজ মঙ্গলবার মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালতে ধার্য ছিল, তবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

মামলার ঘটনার তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে আনুমানিক দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুষ্কৃতকারীরা ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ঘটনার চার দিন পর, ১৪ ডিসেম্বর, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১২০(বি), ৩২৬, ৩০৭, ১০৯ এবং ৩৪ ধারা প্রয়োগ করা হয়। পরে ২০ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন।

এর আগে ৬ জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। চার্জশিটে অভিযুক্তদের মধ্যে ১১ জন কারাগারে এবং ছয় জন পলাতক রয়েছেন। তবে মামলার বাদী ডিবির চার্জশিটে অসন্তোষ প্রকাশ করে ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করেন। আদালত ওই আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন প্রধান শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ, তার সহযোগী আলমগীর হোসেন, মিরপুরের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফিলিপ স্মাল পিলিপস, মুক্তি আক্তার এবং ফয়সালের বোন জেসমিন আক্তার।

কারাগারে থাকা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা এবং শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু। এছাড়া রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের সহযোগী মো. কবির, অভিযুক্তদের ভারতে পালাতে সহায়তাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম, কাউন্সিলর বাপ্পির বোনজামাই আমিনুল ইসলাম রাজু এবং সিপুর ঘনিষ্ঠ ফয়সালও বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

ডিবির চার্জশিটে মোট ৭৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছিল। বর্তমানে সিআইডি মামলাটির অধিকতর তদন্ত করছে এবং প্রতিবেদন দাখিলের পর বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ