জাতীয় ডেস্ক
দেশের সাইবার আইনকে সময়োপযোগী এবং আরও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে আইনজীবীদের কাছ থেকে দ্রুত মতামত, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী প্রযুক্তির বর্তমান বাস্তবতায় গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং বিচার বিভাগের গুরুত্ব তুলে ধরে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর বিশেষ জোর দেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমকে রাষ্ট্র ও সমাজের আয়না হিসেবে বিবেচনা করা হলেও দেশের গণমাধ্যমের সেই আয়না এখনও নিখুঁত হয়ে ওঠেনি। সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাই দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা জরুরি। বস্তুনিষ্ঠতাই গণমাধ্যমের একমাত্র ও প্রধান মানদণ্ড হওয়া উচিত।
বিচার বিভাগ ও আইনবিষয়ক সাংবাদিকতার গুরুত্ব উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি প্রধান বিভাগের মধ্যে বিচার বিভাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি ন্যায়বিচারের অভিভাবক হিসেবে কাজ করে। একজন সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাবান ব্যক্তি, এমনকি সরকারপ্রধানকেও প্রয়োজনে বিচার বিভাগের মুখোমুখি হতে হয়। এটাই বিচার বিভাগের প্রকৃত শক্তি ও স্বাধীনতার প্রতীক। এই বিভাগে কর্মরত সাংবাদিকরা অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ এবং তাদের দায়িত্ব অত্যন্ত সংবেদনশীল। আইন ও বিচারবিষয়ক সাংবাদিকদের প্রতিটি প্রতিবেদন জনমনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তাই প্রতিটি তথ্য অত্যন্ত সতর্কতা, নিরপেক্ষতা ও নির্ভুলতার সঙ্গে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।
বর্তমান বৈশ্বিক তথ্যপ্রবাহের চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে তথ্যপ্রবাহ অত্যন্ত দ্রুতগতির। অনেক সময় সঠিক যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য ছড়িয়ে পড়ার কারণে সমাজে বিভ্রান্তি ও সংঘাতের সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে সত্যতা যাচাই করে দায়িত্বশীলভাবে তথ্য তুলে ধরা সাংবাদিকদের প্রধান কর্তব্য। সমাজ ও রাষ্ট্রের স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করার সময় জনগণের আস্থা ধরে রাখতে সাংবাদিকদের আরও সচেতন হতে হবে।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি অন্তর্বর্তীকালীন ও পরিবর্তনশীল সময় অতিক্রম করছে। এটি কোনো স্থির অবস্থা নয়, বরং একটি চলমান প্রক্রিয়া। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের সব ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল ব্যবস্থায় রূপান্তরের ফলে তথ্যপ্রবাহ ও প্রযুক্তির বিস্তার যে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে, তা মোকাবিলায় সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
প্রযুক্তির নেতিবাচক ও ইতিবাচক দুই দিকই রয়েছে উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি মানেই সভ্যতার সব অর্জন সম্পন্ন হওয়া নয়। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বিশ্বজুড়ে নতুন মাত্রার চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা তৈরি করেছে। প্রযুক্তির এই দ্রুত পরিবর্তনের যুগে সাংবাদিকতাকেও আরও দায়িত্বশীল, নির্ভুল এবং নৈতিকতার ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে এগিয়ে যেতে হবে। সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতেই মূলত প্রচলিত আইন সংস্কারের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


