জাতীয় ডেস্ক
পদ্মা রেল সেতুর ভায়াডাক্টের নিচে অস্থায়ীভাবে ভরাট করা মাটি অপসারণের ফলে রেললাইন বা মূল কাঠামোর কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক, রেল ও নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই মাটি কাটার ফলে কাঠামোর ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না, বরং পরিবেশগত দিক থেকে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ভায়াডাক্ট নির্মাণের সময় ভারী যন্ত্রপাতি চলাচলের সুবিধার্থে এই মাটি সাময়িকভাবে ভরাট করা হয়েছিল, যা এখন প্রকল্পের মূল নকশা ও চুক্তি অনুযায়ী সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেল সেতুর ভায়াডাক্টের নিচে চলমান ডিমোবিলাইজেশন (উদ্ধার ও অপসারণ) কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়ানো ভায়াডাক্টের নিরাপত্তা শঙ্কার তথ্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে আখ্যায়িত করেন।
পরিদর্শনকালে রেলমন্ত্রী বলেন, পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের এই মাটি অপসারণ প্রক্রিয়াটি একটি নিয়মিত এবং পূর্বপরিকল্পিত প্রকৌশলগত কাজ। প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রাকৃতিক পরিবেশকে তার পূর্বের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকাঠামোগত পরিকল্পনার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, মূল কাঠামোর স্থায়িত্ব ও সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এবং বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানেই পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হচ্ছে। ফলে এটি নিয়ে কোনো ধরনের জনমনে বিভ্রান্তির অবকাশ নেই।
প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি ও কাজের পরিধি উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, ভায়াডাক্টের মোট ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার অংশের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৪ দশমিক ৪ কিলোমিটার এলাকার মাটি অপসারণের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে অবশিষ্ট ২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার এলাকায় গড়ে সাড়ে তিন ফুট গভীরতায় মাটি অপসারণের কাজ চলমান রয়েছে। অবশিষ্ট এই অংশের কাজ শেষ হলে পুরো প্রকল্পের পরিবেশগত পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, যা স্থানীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ বজায় রাখতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত জরুরি।
শেখ রবিউল আলম আরও জোর দিয়ে বলেন, পদ্মা রেল সেতুর পুরো কাঠামোটি আন্তর্জাতিক প্রকৌশলগত মানদণ্ড বজায় রেখে নির্মাণ করা হয়েছে এবং এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। দেশের যোগাযোগ খাতের এই মেগা প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদী সুফল নিশ্চিত করতেই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অপপ্রচার বা আংশিক তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া শঙ্কা দূর করে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন যে, কারিগরি মূল্যায়নে এই কাজের কোনো নেতিবাচক দিক পরিলক্ষিত হয়নি।
পরিদর্শনকালে সড়ক পরিবহন ও রেল মন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রহমান এবং রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম। এছাড়াও প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সায়েম এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানসহ রেল মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কর্মকর্তারা প্রকল্প এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা ও কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে কাজ শেষ করার তাগিদ দেন।


