উচিতপুরে দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত; প্রকৃত জেলেদের অধিকার নিশ্চিতের আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর

উচিতপুরে দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত; প্রকৃত জেলেদের অধিকার নিশ্চিতের আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর

সারাদেশ ডেস্ক

দেশের হাওর ও নদী অঞ্চলগুলোতে প্রকৃত জেলেদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে ‘জাল যার, জলা তার’ নীতি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। প্রকৃত মৎস্যজীবীদের আইনি ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করে পরিবেশবান্ধব উপায়ে জলাশয় ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জেলে সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নে নানামুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে নেত্রকোনার মদন উপজেলার উচিতপুর হাওরে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন। সরকারের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র সুরক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়।

মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির পূর্বে মদন উপজেলার উচিতপুর হাওর ঘাট এলাকায় এক জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে বক্তারা হাওরাঞ্চলের মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি খাতের আধুনিকায়ন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। উক্ত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর।

হাওরাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শনের অংশ হিসেবে সরকারের প্রতিনিধি দল মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হাওর এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় স্থানীয় কৃষক, মৎস্যজীবী ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব সভায় হাওরাঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন, স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা হাওরের জলমহালগুলোর ইজারা প্রথায় প্রভাবশালীদের আধিপত্য বন্ধ করে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের সমবায় সমিতির মাধ্যমে পরিচালনার দাবি জানান।

উচিতপুর হাওর এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে স্থানীয় কৃষকদের ব্যাপক ফসলহানি ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারিভাবে প্রণোদনা তালিকা প্রণয়ন করা হলেও, তাতে বিভিন্ন অনিয়ম ও একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। সমাবেশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এই অনিয়মের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নীতিগত ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, অতি অল্প সময়ের মধ্যে অর্থাৎ মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিনের নোটিশে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে এই তালিকা প্রস্তুত করতে হয়েছিল। দ্রুততার সঙ্গে কাজ সম্পন্ন করার কারণে তালিকায় কিছু প্রশাসনিক ও পদ্ধতিগত ভুলত্রুটি তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে যেসব নামের ক্ষেত্রে অনিয়ম বা একই পরিবারের একাধিক সদস্যের অন্তর্ভুক্তি ধরা পড়েছে, সেগুলোর কার্যকারিতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় নতুন করে পুনরায় সম্পূর্ণ তালিকা প্রণয়ন করা সময়সাপেক্ষ ও জটিল বিধায়, ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত কৃষকদের সিংহভাগই যেন এই সহায়তার আওতায় আসে তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হাওরাঞ্চলের অর্থনীতি মূলত কৃষি ও মৎস্য আহরণের ওপর নির্ভরশীল। প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এ অঞ্চলের মানুষ অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ‘জাল যার, জলা তার’ নীতির সঠিক বাস্তবায়ন এবং কৃষি প্রণোদনা বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে হাওরাঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাওরের সামগ্রিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ