অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড থেকে চারদিনের মধ্যে পণ্য খালাস নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। আজ বিকেলে মন্ত্রী চট্টগ্রাম নগরের মেহেদীবাগস্থ নিজ বাসভবনে বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনের প্রতিনিধি, শীর্ষ ব্যবসায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।
সভায় তিনি বলেন, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে অধিকাংশ স্ক্যানিং মেশিন দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকার ফলে পণ্য জট এবং ধীরগতির সরবরাহের সমস্যা তৈরি হয়েছে। তিনি বন্দর ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের দ্রুত বিকল মেশিনগুলো সচল করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “এত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি কীভাবে দিনের পর দিন অচল থাকে, এ ধরনের গাফিলতি কোনোভাবেই বরদাস্তযোগ্য নয়। এসব যন্ত্রপাতির অচলাবস্থা সরাসরি পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।”
এটি অর্থমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম চট্টগ্রাম সফর, যেখানে তিনি বন্দর ও কাস্টমস কার্যক্রমের অবস্থা পর্যালোচনা করেছেন। চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকায় অবস্থিত চট্টগ্রাম বন্দর, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস, ইস্টার্ন রিফাইনারি, বিমানবন্দর ও সিইপিজেডসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও শিল্প স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করেছেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত চট্টগ্রাম পোর্ট ইউজার্স ফোরামের প্রতিনিধিসহ বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনের নেতারা আশ্বাস দেন যে, বন্দর কার্যক্রম কোনোভাবেই এক ঘণ্টার জন্যও বন্ধ হবে না এবং সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “সর্বোচ্চ দক্ষতা ও দ্রুততার সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের পদ্ধতি অনুসরণ করে বন্দর পরিচালনা করা অপরিহার্য। বাজারে পণ্যমূল্য, বাণিজ্য ও শিল্প উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে পরিচালন ও সেবার ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে আনা প্রয়োজন। বন্দর পরিচালনা, কাস্টমস প্রক্রিয়া, পণ্য খালাস, রপ্তানি-আমদানি পণ্যের জাহাজীকরণ ও খালাস সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও উচ্চপর্যায়ে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে দ্রুত সমাধান সম্ভব হয়।”
মন্ত্রী আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নির্বিঘ্ন পরিচালনা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে তিনি নৌপরিবহন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিজে বিষয়গুলো তদারকি ও পর্যবেক্ষণ করবেন।
সভায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা হয়। সভা শেষে মন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বন্দর ব্যবহারকারীরা যে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, সেগুলোর সার্বিক চিত্র পর্যালোচনা করেছি। শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে এসব সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান করা হবে।”
সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস কমিশনার মো. শফিউল্লাহ, চট্টগ্রাম বন্দর সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ, পরিচালক (নিরাপত্তা) লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম পোর্ট ইউজার্স ফোরামের আহ্বায়ক আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম, সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী, সাবেক বিজিএমইএ প্রথম সহ-সভাপতি এম এ সালাম এবং চট্টগ্রাম চেম্বার এন্ড কমার্স ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক আমিরুল হক।


