বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বদল ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিতর্ক

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বদল ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিতর্ক

রাজনীতি ডেস্ক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বুধবার এক প্রকাশিত বক্তব্যে অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর পদে নতুন নিয়োগ দেশের আর্থিক খাতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপন করতে অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তার দায়িত্ব থেকে হঠাৎ করে সরিয়ে দিয়ে নতুন গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা ব্যাংকিং খাতে লুটপাটের পথ উন্মুক্ত করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

নাহিদ ইসলাম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টে আরও উল্লেখ করেছেন, আহসান এইচ মনসুর বিগত সরকারের সময় পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের জনগণের কষ্টার্জিত টাকা ফেরানোর চেষ্টা চালিয়েছেন এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচার রোধের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বাংলাদেশ ব্যাংককে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেন তিনি, যা বাস্তবায়িত হলে সরকার দলীয় ব্যবসায়ীদের হস্তক্ষেপ সীমিত করা সম্ভব হতো।

নাহিদ বলেন, নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দখল ও অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা শুরু করে বিএনপি-আওয়ামী লীগপন্থি কর্মকর্তারা। তিনি অভিযোগ করেন, ব্যাংকের অভ্যন্তরে গভর্নরের উপদেষ্টাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করে বের করে দেওয়া হয়েছে। এই হামলার নেতৃত্ব দেন নওশাদ মোস্তফা, সারোয়ার, মাসুম বিল্লাহ, গোলাম মোস্তফা শ্রাবণসহ কয়েকজন কর্মকর্তা। এর মধ্যে মাসুম বিল্লাহ ও গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে।

এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে দিয়ে সরকার একজন বিতর্কিত ব্যবসায়ীকে গভর্নর নিয়োগ দিয়েছেন। নতুন গভর্নরের মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে ৮৯ কোটি ২ লাখ টাকার ঋণ খেলাপি রয়েছে। গত বছরের জুনে তিনি ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনঃতপশিলের সুযোগ পেয়েছেন। নাহিদ ইসলাম আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এর ফলে দেশের সর্বোচ্চ ব্যাংক ও আর্থিক খাত নিরাপদ থাকবে না এবং সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর বিদেশে অর্থ পাচারের পথ সুগম হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদকে সরিয়ে দেওয়ার ফলে আর্থিক খাতে নীতি নির্ধারণ ও সুদক্ষ পরিচালনা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এনসিপি সরকারের এই পদক্ষেপকে অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী হিসেবে দেখছে এবং দেশের অর্থনীতি রক্ষা করতে সৎ, দক্ষ ও অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদের হাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

এই ঘটনার পর দেশের ব্যাংকিং খাতের স্বায়ত্তশাসন, নীতি নির্ধারণ ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের পদে রাজনৈতিক বা দলীয় প্রভাব থাকলে অর্থনীতির স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ প্রভাবিত হতে পারে। এর ফলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রভাবিত হতে পারে এবং আর্থিক খাতের প্রতি জনগণের আস্থা হ্রাস পেতে পারে।

সংক্ষেপে, কেন্দ্রিয় ব্যাংকের এই পরিবর্তন দেশীয় ব্যাংকিং খাত ও আর্থিক নীতি পরিচালনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ উত্থাপন করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদদের স্থিতিশীল নেতৃত্ব প্রয়োজন, যাতে দেশের আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা, নিয়মিত তদারকি ও জনগণের আস্থা নিশ্চিত করা যায়।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ