ইতালিতে বড় ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে ছোট ভাই নিহত, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

ইতালিতে বড় ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে ছোট ভাই নিহত, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

জাতীয় ডেস্ক

ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর লেইজ-এ (Lecce) পারিবারিক কলহের জেরে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ৮টার দিকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম নয়ন ফকির, যিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী উপজেলার সোনারং এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই হুমায়ুন ফকিরকে অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে ইতালির স্থানীয় পুলিশ।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে দুই ভাই দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করে আসছিলেন। বুধবার রাতে লেইজ শহরে নিজেদের বাসস্থানে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। তর্কের একপর্যায়ে বড় ভাই হুমায়ুন ফকির উত্তেজিত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছোট ভাই নয়ন ফকিরকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই নয়নের মৃত্যু হয়।

ঘটনার নৃশংসতা আরও বৃদ্ধি পায় যখন অভিযুক্ত হুমায়ুন ফকির হত্যাকাণ্ডের পর ভিডিও কলের মাধ্যমে বাংলাদেশে অবস্থানরত পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করেন। ভিডিও কলে তিনি ছোট ভাইয়ের রক্তাক্ত নিথর দেহ স্বজনদের দেখান এবং নিজেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে স্বীকারোক্তি দেন। সুদূর প্রবাসে দুই ভাইয়ের এমন রক্তক্ষয়ী সংঘাতের দৃশ্য দেখে দেশে থাকা মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে এই সংবাদ মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সেখানে এক শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ইতালির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঘটনার পরপরই পুলিশ ওই বাসস্থানে অভিযান চালায়। সেখান থেকে অভিযুক্ত হুমায়ুন ফকিরকে আটক করা হয় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত সংগ্রহ করা হয়। বর্তমানে তিনি দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন। ইতালীয় আইনে এই হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রবাসে দুই সহোদরের মধ্যে এমন ভয়াবহ সংঘাতের ঘটনা প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানানো হয়েছে।

টঙ্গীবাড়ীর সোনারং এলাকায় নিহত নয়ন ফকিরের পরিবারে এখন চলছে মাতম। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যদের এমন পরিণতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনরা। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ