ক্রীড়া প্রতিবেদক
চলমান আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানে হারের মুখোমুখি হওয়া ভারতের সামনে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে ভারতকেই কেবল জয় নয়, অন্য ম্যাচের ফলাফলের ওপরও নজর রাখতে হবে। এই ম্যাচ বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় চেন্নাইয়ের চিপকে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।
২০২৪ সালের আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে একক আধিপত্য বজায় রাখা ভারত গ্রুপ পর্বে সব ম্যাচ জিতে সুপার এইটে প্রবেশ করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষক আশা করেছিলেন, ভারত এইবারও অপরাজিত থেকে ফাইনালে পৌঁছাবে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হারের ফলে দলের অবস্থান ‘গ্রুপ-১’-এর তৃতীয় স্থানে নেমে এসেছে।
ভারতীয় শিবিরের পরিস্থিতি কিছুটা জটিল। দলের টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যান অভিষেক শর্মা দীর্ঘদিন ধরে রান খরায় ভুগছেন। এছাড়া পারিবারিক কারণে বিশ্বকাপের মাঝপথে দলের সঙ্গে থাকতে পারেননি রিংকু সিং। এই পরিস্থিতিতে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে জয় নিশ্চিত করতে হলে ভারতকে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দেখাতে হবে।
ভারতের ব্যাটিং কোচ সীতাংশু অকপটে স্বীকার করেছেন, জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচটি চাপের। তার ভাষ্য, ‘প্রতিপক্ষ যে-ই হোক, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রতিটি ম্যাচেই চাপ থাকে। বিশ্বকাপ হলে তা আরও বেড়ে যায়। দেশের প্রতিনিধিত্ব করা মানেই প্রত্যেক ম্যাচই চাপের।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘ভারতীয় দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলতে পুরোপুরি প্রস্তুত।’
অন্যদিকে, জিম্বাবুয়ের পারফরম্যান্সও নজরকাড়া। দীর্ঘদিন পর আইসিসি ইভেন্টে অংশ নেওয়া এই দলটি গ্রুপ পর্বে চারটি ম্যাচের মধ্যে কোনো ম্যাচ হারায়নি। অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কাসহ শক্তিশালী প্রতিপক্ষকেও তারা পরাস্ত করেছে। সুপার এইটে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারের পরও টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে জিম্বাবুয়ের জয়ের বিকল্প নেই।
জিম্বাবুয়ের বোলিং বিভাগ শক্তিশালী। দলের ব্লেসিং মুজারাবানি ও রিচার্ড এনগারাভাসহ তিনজন দীর্ঘদেহী ফাস্ট বোলার রয়েছে। স্পিন বিভাগে গ্রায়েম ক্রিমার (লেগ স্পিন), সিকান্দার রাজা (অফ স্পিন ও রহস্য স্পিন) এবং ওয়েলিংটন মাসাকাদজা (বাঁহাতি ফিঙ্গার স্পিন) রয়েছেন। চেন্নাইয়ের উইকেটে তাদের বোলিং বৈচিত্র্য ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
সুপার এইটে ভারতের নেট রানরেট বর্তমানে -৩.৮০, যা তাদের কোণঠাসা অবস্থায় রাখছে। অপরদিকে জিম্বাবুয়ে-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় নেট রানরেটকে +৫.৩৫ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের জিম্বাবুয়ে-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে ফলাফল শুধুমাত্র জয় নির্ভর নয়, অন্য ম্যাচের ফলাফলের ওপরও নির্ভরশীল হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত যদি জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে নিজেদের ভুলগুলো সংশোধন করতে এবং ব্যাটিং ও বোলিং বিভাগে সুষম সমন্বয় করতে না পারে, তাহলে সুপার এইটে তাদের অবস্থান আরও সংকীর্ণ হয়ে যাবে। জিম্বাবুয়ের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং ভারতীয় শিবিরের বর্তমান চ্যালেঞ্জ মিলিয়ে ম্যাচটি উচ্চ-চাপে পূর্ণ, যা টুর্নামেন্টের ফলাফলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।


