আইন আদালত ডেস্ক
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাগেরহাটের খান আকরাম হোসেনকে আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার খালাস দিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ রায় দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর ফারুক আহমেদ।
২০১৫ সালের ১১ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলায় বাগেরহাটের শেখ সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টারকে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড এবং খান আকরাম হোসেনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়, মামলার তিনজন আসামির মধ্যে শেখ সিরাজুল হকের বিরুদ্ধে আনা ছয়টি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি প্রমাণিত হয়েছে এবং খান আকরামের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগের মধ্যে একটি প্রমাণিত হয়েছে। প্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে সিরাজকে ফায়ারিং স্কোয়াড বা ফাঁসির দড়ির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়। অপর প্রমাণিত অভিযোগের কারণে আকরামকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছিল।
এরপর উভয় আসামি—শেখ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এবং খান আকরাম হোসেন—আপিল বিভাগে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। মামলার আরেক আসামি আবদুল লতিফ তালুকদার মামলার বিচারাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করার কারণে তাকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
আপিল বিভাগের পরবর্তী কার্যক্রমে প্রসিকিউটর ফারুক আহমেদ জানান, আপিলের বিচারাধীন অবস্থায় শেখ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ মারা গেছেন। খান আকরাম হোসেনের আপিল গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে আপিল বিভাগ তাকে খালাস দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপিল বিভাগের এই সিদ্ধান্ত একাত্তরের মানবতাবিরোধী মামলায় মামলার দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং আইনি যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। খালাসপ্রাপ্ত আকরাম হোসেনের রায় প্রমাণিত অভিযোগের মাত্রা, প্রমাণের বৈধতা এবং আপিলের প্রক্রিয়াগত ন্যায়পরায়ণতার পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে।
এই মামলার রায় এবং আপিলের ফলাফল একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা, আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচারের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রমাণের দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। পাশাপাশি, এটি দেশের আইনি প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা এবং সংবিধানসম্মত আপিল প্রক্রিয়ার গুরুত্বকে পুনরায় সামনে এনেছে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ২০০৯ সালে বাংলাদেশে গঠিত হয়। এটি স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধমূলক ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিচার করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। এ ধরনের মামলায় রায় ও আপিল প্রক্রিয়া দেশের আইনি পরিসরে অতীত অপরাধের ন্যায়সঙ্গত বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


