রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখতে টিসিবির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখতে টিসিবির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পর্যাপ্ত পণ্যমজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। তিনি বলেন, রমজানের শুরুতে কয়েকটি পণ্যের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং সরকার নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখছে।

শুক্রবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজারে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দোকান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ভৈরব বাজারে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, পেঁয়াজসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। বাজারে যাতে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, পুরো রমজান মাসজুড়ে বাজার তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

সরকারি সংস্থা টিসিবির কার্যক্রম প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কিশোরগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় পাঁচটি ট্রাকের মাধ্যমে স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এসব ট্রাকে ভোজ্যতেল, মসুর ডাল, চিনি ও ছোলাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য নির্ধারিত মূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে, যা নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

রমজান মাসকে কেন্দ্র করে দেশে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা সাধারণ সময়ের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুরের মতো পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে। অতীতে দেখা গেছে, এই সময়টিতে সরবরাহ ব্যবস্থায় সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা দেখা দেয়। এ প্রেক্ষাপটে সরকার আগাম আমদানি, মজুত ব্যবস্থাপনা ও মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করে থাকে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় প্রশাসনের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এর মাধ্যমে মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্য যাচাই করা হচ্ছে।

ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ, ভৈরব পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর নাসিমা বেগম এবং ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রমজান মাসে বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সরকারি তদারকি, টিসিবির বিক্রয় কার্যক্রম এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনার সমন্বিত প্রয়াস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সরকার পরিস্থিতির ওপর নজরদারি অব্যাহত রাখলে ভোক্তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য স্বাভাবিক মূল্যে ক্রয়ের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ