খেলাধূলা ডেস্ক
পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি দেশের আকাশসীমা বন্ধ হওয়ার প্রভাব টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর ওপর পড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যে প্রথম ভোগান্তিতে পড়েছে জিম্বাবুয়ে দল। রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলার পর আপাতত ভারতেই অবস্থান করতে হচ্ছে তাদের। টুর্নামেন্ট আয়োজকরা জিম্বাবুয়ে ও অন্যান্য দলের জন্য বিকল্প রুট খুঁজছে।
ইএসপিএনক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, জিম্বাবুয়ে দলটি ধাপে ধাপে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করেছিল। সোমবার ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে দলের কিছু সদস্য দেশে রওনা দেওয়ার কথা ছিল, বাকিরা পরে যেতেন। তাদের জন্য এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বুক করা হয়েছিল, যা দিল্লি থেকে দুবাই হয়ে হারারে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে আকাশসীমা বন্ধ হওয়ার কারণে এখন অন্যান্য এয়ারলাইনস ও রুট বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। দলের হোটেল বুকিং অনুযায়ী, তারা ৪ মার্চ পর্যন্ত দিল্লিতে অবস্থান করবে।
জিম্বাবুয়ে দলের কোচ জাস্টিন স্যামন্স জানিয়েছেন, ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। তিনি বলেন, “না, এ বিষয়ে আমি কিছু শুনিনি। আমরা যখন ম্যাচ শুরু করি তখনও কিছু জানতাম না। ম্যাচ নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম, এরপরও নতুন কোনো তথ্য পাইনি।”
অন্যদিকে, পাকিস্তান দল সুপার এইট পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর শনিবার কলম্বো থেকে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে লাহোরে ফিরেছে। এই ভ্রমণ দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার পেছনে পশ্চিম এশিয়ার সংকটের প্রভাব রয়েছে।
শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের অনেক ফ্লাইট বাতিল বা রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আইসিসি খেলোয়াড়, টিম ম্যানেজমেন্ট, ম্যাচ অফিসিয়াল, সম্প্রচারকর্মী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা ও ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বিকল্প পরিকল্পনা সক্রিয় করেছে।
আইসিসি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সরাসরি টুর্নামেন্ট পরিচালনায় প্রভাব ফেলে না। তবে অধিকাংশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেশে ফেরার জন্য দুবাইসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিমানবন্দরগুলোকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করেন। তাই বিকল্প হিসেবে ইউরোপ, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন হাব হয়ে ভ্রমণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া আইসিসির নিরাপত্তা পরামর্শক দল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক পরামর্শ দিচ্ছে। খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় একটি বিশেষ ট্রাভেল সাপোর্ট ডেস্কও চালু করা হয়েছে, যা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা প্রদান করবে।
বিশ্বকাপ আয়োজকরা জানিয়েছেন, খেলোয়াড় ও টিম ম্যানেজমেন্টের নিরাপদ ও সময়মতো দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য সব ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে। জিম্বাবুয়ে ছাড়াও অন্যান্য দলগুলোও এই পরিস্থিতির কারণে তাদের রুট ও ভ্রমণ পরিকল্পনায় পুনঃবিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছে।


