যুক্তরাষ্ট্র ইরানে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়াবে না: ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়াবে না: ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর কোনো দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাতে জড়াবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো সংঘাতে অংশ নেবে না যা বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকে।

ভ্যান্স মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য ইরানকে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তিনি শুধু তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম কয়েক বছর দেশকে ইরানি পারমাণবিক হুমকি থেকে রক্ষা করতে চাইবেন না, বরং নিশ্চিত করতে চান যে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য ইরানি শাসনব্যবস্থার মানসিকতায় মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি হবে না। ভ্যান্স দাবি করেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনোভাবেই এই দেশকে বহু বছরের যুদ্ধে জড়াতে দেবেন না। আমরা ইরাক ও আফগানিস্তানে যে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম, সেই পরিস্থিতিতে আর প্রবেশ করব না।”

ভ্যান্স ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “ইরানের পারমাণবিক সুবিধাগুলো শুধুমাত্র বেসামরিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির জন্য তৈরি হয়নি, বরং এগুলো পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়নের উদ্দেশ্যেও নির্মিত হয়েছে।”

মার্কিন কর্মকর্তাদের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানীয় পারমাণবিক কর্মকাণ্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিশ্বজুড়ে জিজ্ঞাসা সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে নানা কূটনৈতিক ও সামরিক বিকল্প বিবেচনা করছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অবস্থান ইরান-পারমাণবিক বিষয়ক আলোচনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কৌশলের একটি অংশ। তারা বলছেন, প্রেসিডেন্টের এ হুঁশিয়ারি ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ভ্যান্সের বক্তব্য ইরানি শাসনব্যবস্থার সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়েও আলোচনার সৃষ্টি করেছে। কূটনৈতিক মহল সতর্ক করে বলছে, পারমাণবিক স্থাপনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য দাবির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানকে লক্ষ্য করে মার্কিন নীতি পরিবর্তিত হয়েছে। ইরাক ও আফগানিস্তানের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশটি এখন কৌশলগত হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে সীমিত এবং লক্ষ্যভিত্তিক অবস্থান গ্রহণ করছে।

ভ্যান্সের মন্তব্য পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষামূলক এবং কূটনৈতিক উভয় উপায়ে কাজ করার পরিকল্পনা করছে। এটি কেবল সামরিক হুমকি নয়, বরং কূটনৈতিক চাপ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ইরানকে লক্ষ্য অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ