৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য ও অসাম্প্রদায়িকতা শক্তিশালী হবে: দীপেন দেওয়ান

৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য ও অসাম্প্রদায়িকতা শক্তিশালী হবে: দীপেন দেওয়ান

জাতীয় ডেস্ক

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেছেন, বিএনপি সরকারের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং জাতীয় ঐক্য আরও দৃঢ় হবে। তিনি জানান, এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে সমাজে কোনো ধরনের ভেদাভেদ বা বৈষম্যের স্থান থাকবে না এবং জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ভিন্নতা সত্ত্বেও সবাই পারস্পরিক শ্রদ্ধা, শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে বসবাস করতে সক্ষম হবে।

রোববার রাতে রাজধানীর বাসাবোস্থ ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে আয়োজিত বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভিক্ষু-ভান্তে ও ভক্তবৃন্দের উদ্দেশে মন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে তিনি দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও জনগণের কল্যাণ কামনায় প্রার্থনায় অংশ নেন। মন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকারের ঘোষিত ৩১ দফার ম্যানিফেস্টো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে কোনো ভেদাভেদ বা বৈষম্যের স্থান থাকবে না। সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে একসাথে বসবাস করবে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা সরকারের এই ঘোষণাকে সর্বান্তকরণে মেনে চলব এবং দেশ ও জনগণের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।”

মন্ত্রী বৌদ্ধ ধর্মের মূল বাণী ও জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বৌদ্ধ ধর্ম শান্তি, মৈত্রী ও মানবতার শিক্ষা দেয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে বন্ধন আরও দৃঢ় হবে এবং ভিক্ষু ভান্তেদের প্রার্থনা দেশের মঙ্গল বয়ে আনবে। মন্ত্রী বলেন, “আমরা সবাই মিলে দেশের উন্নতি, শান্তি ও জনগণের কল্যাণে সরকারের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাব।”

দীপেন দেওয়ান ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে আসার দীর্ঘদিনের ইচ্ছার কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানে তাঁর সহধর্মিনী মৈত্রী চাকমা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বৌদ্ধকৃষ্টি প্রচার সংঘের সহ-সভাপতি সরুপানন্দ ভিক্ষু, ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারের উপাধ্যক্ষ ভদন্ত আনন্দমিত্র মহাথেরো, ভদন্ত ধর্মানন্দ মহাথেরো, কল্যাণ জ্যোতি ভিক্ষু, সংগঠনের মহাসচিব ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুশীল বড়ুয়া, রাঙ্গামাটি জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি মানসমুকুর চাকমা, সুভাষ চন্দ্র চাকমা, রনজিত কুমার বড়ুয়া, অনুপম বড়ুয়া, পার্থ প্রতীম বড়ুয়া এবং অন্যান্য বিভিন্ন স্তরের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও ভক্তবৃন্দ।

এ ধরনের প্রার্থনা অনুষ্ঠান পার্বত্য চট্টগ্রামে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সমাজে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করার পাশাপাশি সরকার ঘোষিত নীতি-নৈতিকতার মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের কার্যক্রম সামাজিক সংহতি এবং জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি, ধর্মীয় ও সম্প্রদায় ভিত্তিক পার্থক্যকে উপেক্ষা করে সবাইকে একত্রিত করার প্রচেষ্টা দেশের দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ