ক্রীড়া ডেস্ক
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার চলমান টেস্টের তৃতীয় দিনে বৃষ্টির কারণে খেলা স্থগিত করা হয়েছে। বিকেলের দিকে মুষলধারে বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া ও বজ্রপাত শুরু হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ক্রিকেটাররা। আবহাওয়ার বর্তমান প্রতিকূল অবস্থায় দিনের অবশিষ্ট খেলা পুনরায় শুরু হওয়া নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
দিনের প্রথম ভাগ রোদ ঝলমলে থাকলেও মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। আলোকস্বল্পতার কারণে একপর্যায়ে ফ্লাডলাইট জ্বালিয়ে খেলা চালিয়ে নেওয়া হয়। বিকেল ২টা ১৫ মিনিটে ভারী বর্ষণ শুরু হলে আম্পায়াররা খেলা বন্ধ ঘোষণা করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই তাইজুল ইসলামের বলে সাজঘরে ফেরেন পাকিস্তানের ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান।
ম্যাচের বর্তমান প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের অবস্থান বেশ সুসংহত। মধ্যাহ্নভোজের বিরতি থেকে ফিরে তারা দ্রুত রান তোলার চেষ্টা চালায়। তবে বাংলাদেশি বোলাররা নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন। বিশেষ করে স্পিন বিভাগ থেকে তাইজুল ইসলামের নিয়ন্ত্রিত বোলিং পাকিস্তানের রানের গতি কিছুটা কমিয়ে আনে। সাজঘরে ফেরার আগে মোহাম্মদ রিজওয়ান দলের বড় সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
এর আগে দ্বিতীয় দিন শেষে পাকিস্তান যে অবস্থানে ছিল, সেখান থেকে আজ বড় লিডের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে তারা। অন্যদিকে, বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে অল্প রানে আটকে রাখা। প্রথম সেশনে বোলাররা প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও দ্বিতীয় সেশনে কন্ডিশনের সুবিধা নিয়ে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে স্বাগতিক দল।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় বৃষ্টিপাত আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। মাঠকর্মীরা দ্রুত পিচ এবং আউটফিল্ড কাভার দিয়ে ঢেকে দিলেও বৃষ্টির তীব্রতা এবং বজ্রপাত মাঠের কন্ডিশনকে খেলার অনুপযোগী করে তুলেছে। আম্পায়াররা মাঠ পরিদর্শন করার জন্য বৃষ্টির অবসানের অপেক্ষায় আছেন। তবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত হলেও দীর্ঘ সময় বৃষ্টি চললে আউটফিল্ড ভেজা থাকার কারণে খেলা শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এই টেস্টের ফলাফল উভয় দলের জন্যই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বৃষ্টির কারণে মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ায় ম্যাচের ভাগ্য এখন ড্রয়ের দিকে মোড় নিতে পারে, যা জয়প্রত্যাশী দুই দলের জন্যই কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। আবহাওয়া অনুকূলে আসলে এবং আলোর স্বল্পতা না থাকলে চতুর্থ দিনে বর্ধিত সময়ে খেলা চালিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আজ দিনের শেষ সেশনে কোনো বল মাঠে গড়ানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


