পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের পরিকল্পনা সরকারের

পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের পরিকল্পনা সরকারের

জাতীয় ডেস্ক

পণ্য বাজারে সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকট মোকাবিলায় সরবরাহ ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকসেল কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এই তথ্য নিশ্চিত করেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজারের সরবরাহ শৃঙ্খল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধে এই আধুনিক প্রযুক্তিগত মডেল কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

দীর্ঘদিন ধরে দেশের আমদানিনির্ভর নিত্যপণ্যের বাজারে কতিপয় অসাধু চক্র বা সিন্ডিকেটের প্রভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে উৎসবের মৌসুমে চাহিদা বাড়লে পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। বাণিজ্যমন্ত্রী জনমতের এই বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দিয়ে বলেন, বাজারে অস্বাভাবিক দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতি দূর করতে এবং বাজারকে কারসাজিমুক্ত রাখতে সরকার সুপরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাজারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো নির্বাচিত কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য ‘কৌশলগত মজুত’ বা স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ গড়ে তোলা। এর ফলে জরুরি প্রয়োজনে সরকার বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে আমদানি থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে একটি এআইভিত্তিক ডিজিটাল মডেলের আওতায় আনা।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, সরবরাহ ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে পণ্যের উৎপাদন, আমদানির পরিমাণ, গুদামজাতকরণ এবং পাইকারি ও খুচরা বিক্রির তথ্য রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। যদি কোনো পর্যায়ে পণ্যের সরবরাহ অস্বাভাবিকভাবে আটকে রাখা হয়, তবে প্রযুক্তিটি স্বয়ংক্রিয়াভাবে তা শনাক্ত করবে। এতে করে প্রশাসনিক অভিযান পরিচালনা করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। সাপ্লাই চেইনের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সুযোগ অনেকটা হ্রাস পাবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, আসন্ন ঈদুল আজহা কেন্দ্রিক বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টিসিবির কার্যক্রম বেগবান করা হয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি বেসরকারি আমদানিকারকদের সাথেও সমন্বয় করা হচ্ছে। সরকারের এই বহুমুখী পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ ভোক্তাদের স্বস্তি প্রদান এবং বাজারে একটি টেকসই ও কারসাজিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ