আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেই ব্যাপক জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করেছেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া বিজয়। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই তিনি ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পরিষেবা, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ বাহিনী গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথিতে স্বাক্ষর করেন।
রোববার চেন্নাইয়ে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে শপথ গ্রহণের পর বিজয় তার বক্তব্যে রাজ্যের মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি স্পষ্ট করেন, তার সরকার সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবে। বিশেষ করে সামাজিক সুরক্ষার অংশ হিসেবে প্রতিটি পরিবারের জন্য ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করার ঘোষণা দেন তিনি। পাশাপাশি মাদকের বিস্তার রোধে একটি বিশেষ ‘টাস্কফোর্স’ এবং নারীদের নিরাপত্তা ও তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য বিশেষ বাহিনী ও ডেডিকেটেড হেল্পলাইন খোলার নির্দেশ দিয়েছেন।
তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে বিজয়ের ব্যক্তিগত সংযোগ এই সরকারের একটি অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভাষণে তিনি সরাসরি তরুণ ভোটারদের সম্বোধন করে বলেন, যারা তাকে অত্যন্ত মমতার সাথে ‘বিজয় মামা’ বলে ডাকে, তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব তিনি নিজ কাঁধে গ্রহণ করেছেন। এই আবেগীয় সংযোগের মাধ্যমে তিনি তরুণ সমাজকে রাজ্যের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার সংকল্প ব্যক্ত করেন। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়েও তিনি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা জানান।
তবে নবগঠিত এই সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে রাজ্যের ভঙ্গুর অর্থনীতি। বিজয় তার বক্তব্যে পূর্ববর্তী ডিএমকে সরকারের আমলের বিপুল ঋণের বোঝা ও আর্থিক অব্যবস্থাপনার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি কোষাগারে বর্তমানে ব্যাপক চাপ রয়েছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও জনগণের করের টাকার সঠিক ব্যবহার এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে জনকল্যাণমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম’ (টিভিকে) ১০৮টি আসনে জয়লাভ করে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তীতে কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিআই (এম), ভিসিকে এবং আইইউএমএল-সহ সমমনা দলগুলোর সমর্থনে তাদের জোটের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১২০-এ। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীকে আগামী ১৩ মে’র মধ্যে বিধানসভায় আস্থা ভোটের মাধ্যমে এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের এই জনমুখী ঘোষণাগুলো মূলত আস্থা ভোটের আগে জনসমর্থন সুসংহত করার একটি কৌশলী পদক্ষেপ।


