আন্তর্জাতিক ডেস্ক
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি ও ব্যারাকে হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ভোরে সাফেদ শহরের পূর্বে অবস্থিত গিভা ড্রোন নিয়ন্ত্রণ ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। একই সময় সীমান্তের কাছে অবস্থিত ইফতাহ ব্যারাকেও রকেট নিক্ষেপ করা হয়।
হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, হামলার আগে সোমবার (৯ মার্চ) সকালে হাইফা শহরের পূর্বে অবস্থিত জিপোরিত ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়। সোমবার সন্ধ্যায় তেল আবিবের কাছে অবস্থিত তেল হাশোম সামরিক ঘাঁটিতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হয়েছে। এসব হামলার ফলে সামরিক অবকাঠামোতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে মানবিক ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) হামলার প্রতিক্রিয়ায় আকাশ ও স্থলপথে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। সামরিক সূত্র জানিয়েছে, হামলার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল, যার ফলে বড় ধরনের মানবিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। সশস্ত্র হামলার পর সামরিক ঘাঁটি ও সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে হিজবুল্লাহর এবং ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাতের ঘটনা নিয়মিতভাবে ঘটছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমান্তে উত্তেজনা তীব্র হতে পারে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং উত্তেজনা হ্রাস ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। সাম্প্রতিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকরা সীমান্তে সতর্ক নজরদারি অব্যাহত রেখেছে এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টার তাগিদ দিচ্ছেন।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা হামলার উৎস শনাক্ত ও প্রতিরোধে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে ভবিষ্যতে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।


