থালাপতি বিজয়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধী

থালাপতি বিজয়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’ (টিভিকে) প্রধান থালাপতি বিজয়। রবিবার (১০ মে) চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধী। শপথ মঞ্চে বিজয়ের পাশে রাহুল গান্ধীর উপস্থিতি ভারতের জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন কোনো জোট বা সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই সভাস্থলে পৌঁছান রাহুল গান্ধী। এ সময় মঞ্চে তাকে বিজয়ের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ আলাপচারিতায় রত থাকতে দেখা যায়। রাজ্যের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বিজয় প্রথা অনুযায়ী রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আর্লেকার এবং নবগঠিত মন্ত্রিসভার আট সদস্যের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোকচিত্রে অংশ নেন। সেখানে রাহুল গান্ধীকেও তাদের সঙ্গে ফ্রেমবন্দি হতে দেখা যায়। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নিজের রাজনৈতিক দল ঘোষণার পর থেকে বিজয়ের প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়ে জনমনে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। লোকসভা নির্বাচনের পর এই শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে কংগ্রেস ও টিভিকে-র হৃদ্যতা এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে।

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজনীতিতে তামিলনাড়ু বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ঐতিহ্যগতভাবে রাজ্যটিতে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র আধিপত্য থাকলেও বিজয়ের রাজনৈতিক উত্থান সেই চিরচেনা ছক বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাহুল গান্ধীর এই উপস্থিতি কেবল শিষ্টাচার নয়, বরং ভবিষ্যতে বিজেপির বিরুদ্ধে দক্ষিণ ভারতে একটি শক্তিশালী মোর্চা গঠনের প্রাথমিক পদক্ষেপ হতে পারে। যদিও কংগ্রেসের সঙ্গে বিজয়ের দলের কোনো আনুষ্ঠানিক জোটের ঘোষণা এখনও আসেনি, তবুও দুই নেতার একই মঞ্চে উপস্থিতি তামিলনাড়ুর ভোটারদের মধ্যে নতুন বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।

অনুষ্ঠানটি সফল করতে চেন্নাই জুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। স্টেডিয়ামে কয়েক হাজার সমর্থকের উপস্থিতিতে বিজয় যখন শপথ পাঠ করছিলেন, তখন জনতার উল্লাস ছিল দেখার মতো। চলচ্চিত্র জগত থেকে রাজনীতিতে এসে খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিজয় যেভাবে জনভিত্তি তৈরি করেছেন, তা অনেক অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের কাছেও বিস্ময়কর। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ তাকে পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে বিবেচনা করছে।

অন্যদিকে, রাহুল গান্ধীর জন্য এই সফরটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কর্ণাটক এবং তেলেঙ্গানায় কংগ্রেসের সাফল্যের পর তামিলনাড়ুতে একটি প্রভাবশালী আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা জাতীয় রাজনীতির জন্য কৌশলগতভাবে জরুরি। শপথ অনুষ্ঠান শেষে রাহুল গান্ধী ও বিজয় কোনো সংবাদ সম্মেলন না করলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামী দিনগুলোতে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার এবং কেন্দ্রের বিরোধী শিবিরের মধ্যে সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ