প্রথম প্রান্তিকে সৌদি আরামকোর মুনাফা ৩২.৫ বিলিয়ন ডলার

প্রথম প্রান্তিকে সৌদি আরামকোর মুনাফা ৩২.৫ বিলিয়ন ডলার

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি কোম্পানি সৌদি আরামকো ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ১২০ দশমিক ১৩ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল বা প্রায় ৩২ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নিট মুনাফা অর্জন করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কোম্পানিটির মুনাফা ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা ছিল ৯৫ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন রিয়াল বা প্রায় ২৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।

প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে আরামকোর মোট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ে ছিল ১০৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। এই সময়ে কোম্পানিটির নগদ অর্থ প্রবাহ (ক্যাশ ফ্লো) নিশ্চিত হয়েছে ৩০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। মূলত ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও সরবরাহ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখা এবং কৌশলগত পাইপলাইনের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহারই এই বিপুল মুনাফার নেপথ্যে কাজ করেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা সৌদি আরামকোর জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে সৃষ্ট ঝুঁকির কারণে অনেক ক্রেতা বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকেছেন। এক্ষেত্রে সৌদি আরব তাদের ‘ইস্ট-ওয়েস্ট ক্রুড অয়েল পাইপলাইন’ ব্যবহার করে লোহিত সাগরের বন্দর দিয়ে তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখতে পেরেছে। এই কৌশলগত সিদ্ধান্তের ফলে লজিস্টিক জটিলতা এড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আরামকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিন নাসের এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কোম্পানিটির ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বর্তমানে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনের সক্ষমতায় পৌঁছেছে। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব প্রশমনে এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের সীমাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্ব অপরিসীম। নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ ছাড়া বিশ্ব অর্থনীতির চাকা সচল রাখা যে অত্যন্ত কঠিন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তা আবারও প্রমাণ করেছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তেল ও গ্যাস উত্তোলন বৃদ্ধির পাশাপাশি বিকল্প রপ্তানি রুটের সফল ব্যবহার সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ভিতকে আরও শক্তিশালী করেছে। বৈশ্বিক তেলের দামের ওঠানামা এবং ভূরাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও আরামকোর এই উচ্চ প্রবৃদ্ধি আগামী দিনগুলোতে বিশ্ব অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। একদিকে উচ্চ মুনাফা এবং অন্যদিকে স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে আরামকো বৈশ্বিক বাজারে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশেষ করে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যেখানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি বিদ্যমান, সেখানে সৌদি আরামকোর এই সরবরাহ সক্ষমতা বাজারের ভারসাম্য রক্ষায় অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা বৈশ্বিক তেলের চাহিদার স্থায়িত্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর অনেকাংশে নির্ভর করছে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ