ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরিচালিত সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হওয়ার দিকে যাচ্ছে। সোমবার ফ্লোরিডার ডোরালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ পরিকল্পনার তুলনায় লক্ষ্য অর্জনের গতিসীমা দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।

এছাড়া তিনি জানান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন। ট্রাম্প বলেন, পুতিন মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত নিরসনে সহায়তা করতে ইচ্ছুক।

ট্রাম্পের বরাতে জানা গেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানজুড়ে প্রায় ৫ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে এবং এ পর্যন্ত দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রায় ১০ শতাংশ বা তারও নিচে নেমে গেছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিন জানিয়েছে, পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যে টেলিফোন আলোচনাটি ‘খোলামেলা ও গঠনমূলক’ ছিল। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ডিসেম্বরের পর মঙ্গলবারের এই আলোচনা প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। আলোচনায় শুধু ইরান সম্পর্কিত সংকটই নয়, ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধকেও গুরুত্ব সহকারে আলোকপাত করা হয়েছে।

পুতিনের কূটনৈতিক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বলেন, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে কূটনৈতিকভাবে সমস্যার সমাধান করার বার্তা দিয়েছে। উশাকভ আরও জানান, পুতিন ট্রাম্পকে ইরান সংঘাতের দ্রুত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধান আনার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া বিশ্বব্যাপী তেলের বাজারে অস্থিরতার বিষয় এবং ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতিও আলোচনায় উঠে এসেছে।

উশাকভের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিল। আলোচনার সময় ইরানের সংঘাত থামানোর জন্য পুতিন কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন, যদিও বিস্তারিত খোলাসা করা হয়নি।

এই আলোচনার প্রেক্ষিতে কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমাধানের পথে অগ্রসর হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এ অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

সংগঠিত সামরিক আক্রমণ ও কূটনৈতিক আলোচনা একসাথে চলার কারণে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রভাব আন্তর্জাতিক তেলের বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ