জাতীয় ডেস্ক
গাজীপুরে অনুষ্ঠিত এক সুধী সমাবেশে পুলিশ প্রধান মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেছেন, দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত সমাজে পুলিশের ভূমিকা অপরিহার্য। হাসপাতালের নবজাতক শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে কবর দেওয়ার সময় কঙ্কাল চুরির মতো ঘটনা রোধ করা পর্যন্ত পুলিশ সেবা প্রয়োজনীয়। তিনি জনগণকে পুলিশের কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান এবং অতীতের বিতর্কিত সময়ে ফ্যাসিস্ট ধরনে পুলিশের দমননীতি যাতে পুনরায় দেশে ফিরে না আসে, সে ব্যাপারে জোর দেন।
আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, “অতীতের নানা বিতর্কিত সময় অতিক্রম করে পুলিশ এখন জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে স্বীকৃত। এই ধারা অব্যাহত রাখতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা অপরিহার্য।” তিনি পুলিশের সেবার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, থানায় আসা বিচারপ্রার্থীদের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে হবে যাতে কেউ থানা থেকে অসন্তুষ্ট হয়ে না ফিরে যায়।
মাদকের ভয়াবহতার বিষয়েও সতর্ক করে তিনি বলেন, মাদক তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
আইজিপি আরও বলেন, সম্প্রতি একটি ঐতিহাসিক নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে সর্বজন গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বস্ত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে কিছু মহল স্বার্থসিদ্ধির কারণে এই অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি দেশবাসীকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
গতকাল শনিবার বিকেলে জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি। স্বাগত বক্তব্য দেন পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার। এছাড়া বক্তব্য দেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার তাহেরুল হক চৌহান, জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন প্রমুখ।
সমাবেশে আইজিপি পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ববোধ এবং জনগণের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “পুলিশ ছাড়া সমাজ চলবে না। জনগণকে পুলিশের কার্যক্রমে সমর্থন ও সহযোগিতা করতে হবে। এটি সমাজে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।”
সমাবেশে উপস্থিতরা পুলিশের জনবান্ধব নীতি, সেবার মানোন্নয়ন এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি তারা পুলিশ বাহিনীর স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও সমাজসেবামূলক দিক আরও দৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ধরনের সমাবেশ নিয়মিতভাবে আয়োজনের মাধ্যমে পুলিশের কাজের স্বচ্ছতা ও জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।


