অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক
ব্যক্তি পর্যায়ে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে অনুদান উৎসাহিত করতে দেশের ১১টি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ স্বীকৃতি দিয়েছে সরকার। এসব সংস্থায় দান করলে করদাতারা আয়কর রেয়াত সুবিধা পাবেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আয়কর) সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, আয়কর আইনের বিধান অনুযায়ী কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনুদান দিলে এই রেয়াত সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। সরকারের এই সিদ্ধান্ত আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে এবং ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অর্থাৎ আগামী চার অর্থবছর এই সুবিধা বহাল থাকবে।
আয়কর রেয়াতের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া ১১টি প্রতিষ্ঠান হলো—এএসএইচআইসি (ফাউন্ডেশন ফর চাইল্ডহুড ক্যান্সার), বাংলাদেশ ক্যান্সার এইড ট্রাস্ট, আল-মারকাজুল ইসলামী, ডিসএবল্ড চাইল্ড ফাউন্ডেশন, শেরপুর ডায়াবেটিক সমিতি, মাওনা ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি, অটিজম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, ব্র্যাক, রামকৃষ্ণ মিশন (ঢাকা) এবং চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল।
অর্থনৈতিক ও রাজস্ব বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই উদ্যোগের ফলে দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সমাজকল্যাণমূলক খাতে বেসরকারি ও ব্যক্তিগত অনুদানের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে ক্যানসার, থ্যালাসেমিয়া, অটিজম এবং ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক সংকটে ভুগে থাকে। কর রেয়াতের এই আইনি সুবিধার কারণে সমাজের সচ্ছল ব্যক্তিরা এসব জনকল্যাণমূলক সংস্থায় অনুদান দিতে আরও আগ্রহী হবেন। এতে প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা প্রাপ্তি সহজতর হবে। একই সঙ্গে এটি করদাতাদের বৈধভাবে করের বোঝা লাঘব করার একটি আনুষ্ঠানিক সুযোগ তৈরি করল।


