আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ

আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ

শিক্ষা ও জাতীয় পরিমণ্ডল ডেস্ক

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। একই সাথে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলও পরীক্ষা শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যে প্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আজ সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তকে দেশের সার্বিক শিক্ষাপঞ্জির স্থবিরতা কাটানোর একটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সাধারণত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ফলাফল প্রকাশ এবং পরবর্তী স্তরে ভর্তির মধ্যবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সেশনজটের মুখে পড়ে। সরকারের নতুন এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো ২০২৮ সালের মধ্যে পরীক্ষা-পরবর্তী দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানো, যাতে শিক্ষার্থীরা কলেজ শেষ করেই কোনো সেশনজট ছাড়াই সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান শুরু করতে পারে। এই পদক্ষেপ সফল হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে মূল্যবান সময় সাশ্রয় হবে এবং উচ্চশিক্ষার গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী দেশের জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের ওপর জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষা খাতে ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং সরকার এই খাতে সামগ্রিক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার প্রসারকে আগামী দিনের উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশব্যাপী নির্মাণাধীন ৩২৯টি নতুন টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবকাঠামোগত কাজ আগামী দুই বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগটি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ এজেন্ডার অংশ, যা তৃণমূল পর্যায়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করেছে মন্ত্রণালয়। আগামী জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়া, নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই যাতে শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে পড়াশোনা শুরু করতে পারে, সেজন্য আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংশোধিত ও পরিমার্জিত নতুন পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

দেশের শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ কোচিংনির্ভরতা কমিয়ে আনতে নতুন শিক্ষাক্রম (কারিকুলাম) সংস্কারের বিষয়েও নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করেছে মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত কোচিং সেন্টারে যাওয়ার প্রবণতা রোধে নতুন সিলেবাস ও কারিকুলাম এমনভাবে প্রণয়ন করা হচ্ছে, যা শ্রেণিকক্ষেই পাঠদান সম্পন্ন করতে সহায়ক হবে। মন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা কেবল চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সহশিক্ষা কার্যক্রমেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সামগ্রিক এই সংস্কার প্রক্রিয়া দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান বাড়াতে এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ