জ্বালানি তেল বিক্রিতে আর কোনো বিধিনিষেধ নেই: প্রতিমন্ত্রী

জ্বালানি তেল বিক্রিতে আর কোনো বিধিনিষেধ নেই: প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশ ডেস্ক

দেশে জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর আরোপিত সব ধরনের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। রোববার (১৫ মার্চ) রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে গ্রাহকরা কোনো নির্ধারিত সীমা ছাড়াই প্রয়োজন অনুযায়ী পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সংগ্রহ করতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর আরোপিত সব বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সামনে আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং কৃষি খাতে চলমান সেচ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, জ্বালানি তেলবাহী কয়েকটি জাহাজ ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে এবং সেগুলো থেকে সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বাজারে জ্বালানির প্রাপ্যতা বাড়ছে।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর প্রভাব বাংলাদেশসহ অনেক আমদানিনির্ভর দেশের বাজারেও পড়তে শুরু করে। ফলে দেশের অভ্যন্তরে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ৬ মার্চ থেকে সরকার সাময়িকভাবে জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর নির্দিষ্ট সীমা আরোপ করে।

সেই সময় জ্বালানি তেলের চাহিদা নিয়ন্ত্রণ এবং মজুত পরিস্থিতি সামাল দিতে ফিলিং স্টেশনগুলোকে নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে জ্বালানি ক্রয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয় সর্বোচ্চ ২ লিটার। পরে রাইড শেয়ারিং সেবা এবং শহরাঞ্চলে যাতায়াতের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে গত ১০ মার্চ এই সীমা বাড়িয়ে ৫ লিটার করা হয়।

এছাড়া দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে চাহিদার তুলনায় জ্বালানি সরবরাহ প্রায় ২৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মজুত সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় খাতে জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করাই ছিল এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। পরবর্তীতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে বিভাগীয় শহরগুলোতে এ সীমাবদ্ধতা আংশিকভাবে শিথিল করা হয়।

এদিকে জ্বালানি তেলবাহী নতুন চালান দেশে পৌঁছানো এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ায় সরকার ধাপে ধাপে সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বন্দরে আসা জাহাজগুলো থেকে জ্বালানি তেল খালাসের কাজ চলমান রয়েছে এবং সেগুলো পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ডিপোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে দেশজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের কৃষি খাতে সেচ কার্যক্রমে ডিজেলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। বোরো মৌসুমে কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করা খাদ্য উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। একই সময়ে ঈদ উপলক্ষে রাজধানীসহ বড় শহরগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিজ নিজ এলাকায় যাতায়াত করেন। এ কারণে পরিবহন খাতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং জনসাধারণের চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার ফলে এখন থেকে জ্বালানি তেল কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ওপর আর কোনো নির্দিষ্ট সীমা প্রযোজ্য থাকবে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ