ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল কলকাতায় যাবে

ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল কলকাতায় যাবে

আইন আদালত ডেস্ক

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সোমবার জানিয়েছেন, কনস্যুলার অ্যাক্সেস পাওয়ার পর বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই প্রধান আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কলকাতায় পাঠানো হবে। তিনি এ তথ্য সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানান।

এর আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা শনিবার দিবাগত রাতে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশি তৎপরতায় ধরা পড়ে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, “কলকাতার উপকমিশনার ইতোমধ্যেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আমরা ভারতের কাছ থেকে কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছি। আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, তা এখন পর্যন্ত যথেষ্ট নয়। কনস্যুলার অ্যাক্সেস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা মামলার তদন্ত কার্যক্রমে সামনের দিকে অগ্রসর হতে পারব।”

তিনি আরও জানান, ভারত সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দি বিনিময় চুক্তি রয়েছে। যদি গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা শনাক্ত হয়, তবে এই চুক্তির আওতায় তাদের দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে তাদের আইনানুগ জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মামলার তদন্তকে আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।

ওসমান হাদি হত্যা মামলার ঘটনার পটভূমি হিসেবে বলা যায়, ৭ মার্চ দিবাগত রাতে শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় পুলিশ এবং স্পেশাল টাস্ক ফোর্স তদন্ত শুরু করে। ভারত-পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ প্রধান আসামি এবং তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, কনস্যুলার অ্যাক্সেসের মাধ্যমে দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত পরিস্থিতি উদঘাটন হবে। পাশাপাশি, এই তথ্যগুলো ভবিষ্যতে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা সম্ভব হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আসামিদের দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া এবং তদন্ত কার্যক্রম কৌশলীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

এই মামলার তদন্তে বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো আশা করছে, কনস্যুলার অ্যাক্সেসের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনের গ্রেপ্তারের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যক্রম ত্বরান্বিত করেছে। এখন পর্যন্ত জানা গেছে, বাংলাদেশের তদন্তকারী দল আসামিদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ