আইএমএফ থেকে ১.৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ কিস্তি পাওয়া সম্ভব জুলাইয়ে : অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

আইএমএফ থেকে ১.৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ কিস্তি পাওয়া সম্ভব জুলাইয়ে : অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে পরবর্তী কিস্তি হিসেবে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার প্রাপ্তি বিষয়ে আগামী এপ্রিলে সংস্থাটির বোর্ড সভায় চূড়ান্ত আলোচনা হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী হলে, জুলাই মাসে এ ঋণের কিস্তি পাওয়া যেতে পারে।

গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে সফররত আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘১.৩ বিলিয়ন ডলারের কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে জুলাইয়ে রিভিউ হবে। এর আগে এপ্রিলে ওয়াশিংটনে আইএমএফের স্প্রিং মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হবে। একই সঙ্গে আমরা বাজেট প্রস্তুতির কাজও এগিয়ে নেব।’

অর্থমন্ত্রী জ্বালানি আমদানির জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আইএমএফের সঙ্গে আলাপ আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, স্প্রিং মিটিংয়ে এ বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে। এছাড়া চলমান ঋণ কর্মসূচির অগ্রগতি পুনঃপর্যালোচনা করা হবে। তিনি বলেন, ‘আইএমএফের শর্তগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে সব শর্ত একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ধাপে ধাপে এগোতে হবে।’

আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন বৈঠকের পর বলেন, বাংলাদেশের চলমান ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে এবং কর্মসূচির রিভিউ করা হবে।

অর্থমন্ত্রী দেশের অর্থনীতি ও আর্থিক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজার এখনও দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং কর-জিডিপি অনুপাত কম। তিনি আরও বলেন, এসব সমস্যার সমাধানে অর্থনৈতিক সংস্কার ও নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ অপরিহার্য।

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণে সরকারের কার্যক্রমের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, কৃষি ঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থমকে থাকা উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পুনরায় সচল করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতিকে টেকসই অবস্থানে রাখতে সংস্কার অপরিহার্য। ব্যবসা সহজীকরণ ও ব্যয় কমানোর জন্য ইতিমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, বাকি উদ্যোগগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশবাসীকে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, সরকার একা এই সংকট মোকাবিলা করতে পারবে না; সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি উত্তরণ সম্ভব।

Uncategorized