ওসমান হাদি হত্যার আসামিদের বাংলাদেশে হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে

ওসমান হাদি হত্যার আসামিদের বাংলাদেশে হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে

জাতীয় ডেস্ক

ভারতে পলাতক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদের বন্দি বিনিময় চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মন্ত্রী এই তথ্য জানান। ভারত থেকে আসামিদের হস্তান্তরের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। বন্দি বিনিময় চুক্তি অনুযায়ী তাদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

মন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালোরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে প্রথম গণহত্যা শুরু হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা আসে। তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান ওই গণহত্যার খবর পেয়ে চট্টগ্রামে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন কামনা করেন। তিনি এ ঘটনাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ‘প্রকৃত ইতিহাস’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শহীদ পুলিশ সদস্যদের আত্মত্যাগের কথাও স্মরণ করেন এবং বলেন, “রাজারবাগের পুলিশ সদস্যদের রক্তদানের মধ্য দিয়েই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়। তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, বন্দি বিনিময় চুক্তি কার্যকর হলে ওসমান হাদি হত্যার মামলার পলাতক আসামিদের দেশে ফেরানো আরও সুনির্দিষ্ট ও দ্রুত হবে। এতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান মামলার বিচারে প্রভাব পড়তে পারে এবং বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। পাশাপাশি এটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোর কার্যকারিতা এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মধ্যেকার সমন্বয়কে আরও দৃঢ় করবে।

এর আগে, ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডটি দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল। দেশীয় আইন অনুযায়ী এই হত্যাকাণ্ডের মূল প্রেক্ষাপট, মামলার ধরন এবং প্রমাণাদি বিচার বিভাগের মাধ্যমে যাচাই করা হয়। বন্দি বিনিময় প্রক্রিয়া কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট আসামিদের দেশে আনা ও আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা দিবসের প্রাসঙ্গিকতায় মন্ত্রী রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের ঘটনাকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ না হলে দেশ স্বাধীন হতো না এবং এই ইতিহাস বর্তমান প্রজন্মকে দেশের মুক্তি সংগ্রামের তাৎপর্য বোঝার সুযোগ করে দেয়।

এ ধরনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সরকারের নীতি ও স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের মধ্য দিয়ে জাতির কাছে ইতিহাসের সত্য তুলে ধরার প্রয়াসের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ