জাতীয় ডেস্ক
আন্তর্জাতিক মা দিবস উপলক্ষ্যে দেশ ও বিদেশের সকল মায়েদের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (১১ মে) দিবসটি উপলক্ষ্যে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি মায়েদের সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং সন্তানের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার পেছনে মায়ের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করেন।
বিএনপি মহাসচিব তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, ‘মা’ শব্দটির ব্যাপকতা অসীম এবং একটি পরিবারে মা হচ্ছেন এক অপরিহার্য ও মহিমান্বিত প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, মহীয়সী মায়ের শিক্ষাতেই একটি শিশুর ভবিষ্যৎ নির্মিত হয়। সুমাতার সান্নিধ্যে সন্তানের উৎকর্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং প্রকৃত মানবসত্তার জাগরণ ঘটে, যা সন্তানের আত্মাকে নির্মল করে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের সর্বশেষ নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে তিনি মাকে অভিহিত করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মাকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন-ক্ষণের প্রয়োজন হয় না। মা সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখান, তাই মায়ের প্রতি সন্তানের ভালোবাসা প্রতিদিনের। তবে স্বতন্ত্রভাবে ভালোবাসা প্রকাশের লক্ষ্যেই এই বিশেষ দিনটির গুরুত্ব রয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিবেদিতপ্রাণ এই মানুষটি সন্তানদের গড়ে তুলতে সব অর্থেই আপোসহীন ও সংগ্রামী ভূমিকা পালন করেন। একজন মা অসীম শক্তির আধার।
বাণীতে দেশের নারী সমাজের অগ্রগতি ও ক্ষমতায়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি দাবি করেন, বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতাসীন থাকাকালে আর্থিক ও সামাজিক খাতে নারী সমাজের উন্নয়নে যে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তা দেশ ও বিদেশে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। লুণ্ঠিত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তাঁর অটল ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও রাজরোষের শিকার হওয়া সত্ত্বেও বেগম খালেদা জিয়া তাঁর আদর্শ ও কর্তব্য থেকে বিচ্যুত হননি। এই আপোসহীন সংগ্রামের কারণে তিনি আজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ‘গণতন্ত্রের মা’ হিসেবে সর্বজন শ্রদ্ধেয় ও অভিনন্দিত। মা দিবস উপলক্ষ্যে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া করেন।
বিবৃতির শেষে দেশের সকল নাগরিকের প্রতি মায়েদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। তিনি গুরুত্বারোপ করেন যে, সন্তানদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার প্রধান শর্ত হচ্ছে মায়ের মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং তাঁদের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা। সামাজিক স্থিতিশীলতা ও মূল্যবোধের বিকাশে মায়ের ভূমিকা যে কোনো প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অগ্রগণ্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।


