রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে সরকারের গুরুত্বারোপ: উখিয়ায় প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে সরকারের গুরুত্বারোপ: উখিয়ায় প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

জাতীয় ডেস্ক

রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য নিরাপদ, মানবিক ও কার্যকর শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো শিশু যেন শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করা অপরিহার্য।

আজ রোববার কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্পসমূহে পরিচালিত বিভিন্ন শিক্ষা কেন্দ্র (লার্নিং সেন্টার) পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন গ্রেডের শিক্ষার্থীদের সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন সম্পর্কে ধারণা নেন।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে শিশুদের শিক্ষার অধিকার রক্ষা করা অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব। তিনি বলেন, “প্রতিটি শিশুরই স্বপ্ন দেখার অধিকার রয়েছে। শিক্ষা কেবল জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং এটি একটি প্রজন্মকে সহিংসতা, চরমপন্থা ও হতাশা থেকে রক্ষা করার প্রধান হাতিয়ার। সংকটের মধ্যেও আমরা তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথ প্রশস্ত করতে চাই।”

বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের লার্নিং সেন্টারগুলোতে মিয়ানমারের জাতীয় শিক্ষাক্রম (কারিকুলাম) অনুসরণ করে শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। এই কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষার্থীদের গ্রেড-১২ পর্যন্ত মিয়ানমার ভাষা, ইংরেজি, গণিত, ভূগোল, ইতিহাস এবং বিজ্ঞান—এই ছয়টি বিষয়ে পাঠদান করা হয়। মূলত নিজ দেশের সংস্কৃতি ও ভাষার সাথে সংযোগ রক্ষা এবং প্রত্যাবাসনের পর যেন তারা নিজ সমাজব্যবস্থায় সহজেই খাপ খাইয়ে নিতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই বিশেষ কারিকুলাম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী ইউনিসেফ ও ব্র্যাকের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত তিনটি লার্নিং সেন্টারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা শিক্ষাদান প্রক্রিয়ার নানা সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করেন। তারা অবকাঠামোগত সংকট, প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রীর অপর্যাপ্ততা এবং শিক্ষকদের উন্নত প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী এসব সমস্যা গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার এই সুযোগ মিয়ানমারে তাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। শিক্ষার অনুপস্থিতিতে ক্যাম্পের বিশাল এই তরুণ জনগোষ্ঠী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা পাচারকারী চক্রের শিকারে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে, যা মোকাবিলায় শিক্ষা একটি প্রতিরক্ষা দেয়াল হিসেবে কাজ করছে।

এদিন প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সাথেও মতবিনিময় করেন এবং তাদের শিক্ষার মানোন্নয়নে পরামর্শ গ্রহণ করেন। পরিদর্শনে তার সাথে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফের শিক্ষা বিভাগের প্রধান দীপা সরকার, শিক্ষা ব্যবস্থাপক লুইজ লিক, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ