র‌্যাবের নতুন ডিজি হিসেবে মো. আহসান হাবীব পলাশ দায়িত্ব গ্রহণ

র‌্যাবের নতুন ডিজি হিসেবে মো. আহসান হাবীব পলাশ দায়িত্ব গ্রহণ

জাতীয় ডেস্ক

শনিবার (২৮ মার্চ) বাংলাদেশে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-এর ১২তম মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন অতিরিক্ত আইজিপি (বিপিএম-সেবা) মো. আহসান হাবীব পলাশ। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং র‌্যাবের কার্যক্রমের নেতৃত্বে দায়িত্ব নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন।

মো. আহসান হাবীব পলাশ ১৯৯৫ সালে বিসিএস ১৫তম ব্যাচে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। পরে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদা, রাজশাহী থেকে এক বছরের মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ৪ এপিবিএন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি রাঙ্গামাটি, শরীয়তপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ ইউনিটেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

পদোন্নতির পর তিনি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হেডকোয়ার্টার্সে প্রশাসনিক ও তদন্ত কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং পরে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে র‌্যাবের নেতৃত্বে দক্ষতা ও নীতি নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে সক্ষম করেছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও মো. আহসান হাবীব পলাশের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ। তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কসোভো, লাইবেরিয়া, সুদান ও দক্ষিণ সুদানে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষা সৈন্যদের নেতৃত্ব প্রদান ও সামরিক সহযোগিতার দায়িত্ব পালন করেছেন। তার আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা র‌্যাবের আধুনিক প্রযুক্তি ও কৌশল উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশ পুলিশের অনন্য সেবা স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি “বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল” (বিপিএম-সেবা) পদকে ভূষিত হন। শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসএস (সম্মান) এবং এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন, যা তার প্রশাসনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে সমৃদ্ধি যোগ করেছে।

মো. আহসান হাবীব পলাশের নেতৃত্বে র‌্যাবের বিভিন্ন কার্যক্রমে আরও সুবিন্যস্ত ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তার অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ র‌্যাবের অপরাধ দমন, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, এবং মানবাধিকার সম্মত নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ