আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদের নির্বাচন আজ মঙ্গলবার (২ জুন) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ কক্ষে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় (বাংলাদেশ সময় রাত আটটা) এই ভোট গ্রহণ শুরু হবে। এবারের নির্বাচনে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত এই শীর্ষ পদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৬ সালে ৪১তম অধিবেশনে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর দীর্ঘ চার দশক (৪০ বছর) এই পদে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি বাংলাদেশ। ফলে এবারের নির্বাচনটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান ও বহুপাক্ষিক কূটনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। প্রায় চার বছর আগে এই পদের জন্য ঢাকা প্রথম প্রার্থিতা ঘোষণা করে। পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পর গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রার্থিতায় পরিবর্তন আনা হয়। নতুন সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে এই পদের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল।
এই পদের প্রার্থিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বেশ কিছু কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছিল। ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের এই নির্বাচনের জন্য শেষ মুহূর্তে ফিলিস্তিন প্রার্থিতা ঘোষণা করলে একপ্রকার জটিলতার সৃষ্টি হয়। ফিলিস্তিনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফলে মুসলিম দেশগুলোর ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে বাংলাদেশ কৌশলগত কারণে প্রচার সাময়িক স্থগিত রাখলেও প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেনি। পরবর্তী সময়ে মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে ফিলিস্তিন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিলে বাংলাদেশের জন্য পথ সুগম হয়। এরপর ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) ও কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমর্থন তৈরি হয়।
জাতিসংঘের কার্যবিধি অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদটি ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের গোপন ব্যালটের মাধ্যমে প্রতি বছর নির্বাচিত হয়। প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের একটি করে ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে এবং সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিজয়ী নির্ধারিত হয়।
এই নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে তীব্র আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, জাতিসংঘে ড. খলিলুর রহমানের দীর্ঘ কর্মজীবন ও বহুপাক্ষিক কূটনীতির বিশাল অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের অবস্থানকে অত্যন্ত শক্তিশালী করেছে। এই নির্বাচনে জয়লাভ করলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নীতি নির্ধারণী ভূমিকা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের ভাবমূর্তি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে।


