হামলা বন্ধে মার্কিন প্রস্তাবে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের সম্মতি, তবে দক্ষিণ লেবাননে অভিযান সচল

হামলা বন্ধে মার্কিন প্রস্তাবে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের সম্মতি, তবে দক্ষিণ লেবাননে অভিযান সচল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাত নিরসনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি সাময়িক সমঝোতা প্রতিষ্ঠা হয়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত পারস্পরিক হামলা বন্ধের একটি প্রস্তাব গ্রহণে সম্মত হয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এর বিপরীতে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে নতুন করে কোনো সামরিক সামরিক অভিযান বা বিমান হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে ইসরায়েল। সোমবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থিত লেবানন দূতাবাসের পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, পারস্পরিক শত্রুতা ও দ্বিপাক্ষিক হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবটি হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক নেতৃত্ব গ্রহণ করেছে। প্রাথমিকভাবে এই যুদ্ধবিরতি বৈরুত এবং এর আশপাশের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলোতে ইসরায়েলি বিমান হামলা বন্ধের ওপর জোর দিলেও, পরবর্তী সময়ে এই রূপরেখা পুরো লেবাননজুড়ে সম্প্রসারণ করার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সামাজিক যোগাযোগ বার্তায় এই কূটনৈতিক অগ্রগতির বিষয়টি সামনে আনেন। তিনি জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং হিজবুল্লাহর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক ও নিবিড় আলোচনার পর উভয় পক্ষই অনতিবিলম্বে গোলাগুলি বন্ধ করতে রাজি হয়েছে। বৈরুত অভিমুখে অগ্রসরমাণ বা প্রস্তুত থাকা ইসরায়েলি সেনাদের ইতিমধ্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াইট হাউসের এই মধ্যস্থতা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পরোক্ষ উত্তেজনাকে সাময়িকভাবে প্রশমিত করতে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।

তবে এই সমঝোতার পরপরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক হুঁশিয়ারি বার্তায় তাঁর দেশের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, হিজবুল্লাহ যদি ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তবর্তী শহর ও বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে রকেট বা ড্রোন হামলা অব্যাহত রাখে, তবে বৈরুতে পুনরায় কঠোর সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নেতানিয়াহু আরও স্পষ্ট করেছেন যে, রাজধানী বৈরুতে হামলা বন্ধের এই সিদ্ধান্ত কোনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নয় এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী দক্ষিণ লেবাননের ভূখণ্ডে হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের লক্ষ্যে চলমান স্থল অভিযান অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমঝোতাটি অত্যন্ত ভঙ্গুর এবং এর স্থায়িত্ব নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির এই ঘোষণা আসার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তর ইসরায়েল ও দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, উত্তর ইসরায়েলের দুটি সীমান্তবর্তী গ্রামের কাছে অবস্থান নেওয়া ইসরায়েলি সামরিক ট্যাংক ও পদাতিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে তারা ড্রোন এবং ভারী কামান দিয়ে তিনটি পৃথক হামলা চালিয়েছে।

এর আগে আঞ্চলিক পরাশক্তি ইরান মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেছিল যে, লেবাননের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে ইসরায়েলের এই ধারাবাহিক সামরিক আগ্রাসন বৈশ্বিক কূটনীতি ও বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার জন্য একটি বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে। ফলে বৈরুতকে কেন্দ্র করে এই সাময়িক সমঝোতা কতটুকু সফল হবে, তা আগামী দিনগুলোতে মাঠপর্যায়ের সামরিক সংযম এবং ওয়াশিংটনের ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর নির্ভর করছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ