বেসরকারি মেডিকেলে ১০ শতাংশ শয্যা বরাদ্দ, ডেঙ্গু চিকিৎসায় মিলবে বড় ছাড়

বেসরকারি মেডিকেলে ১০ শতাংশ শয্যা বরাদ্দ, ডেঙ্গু চিকিৎসায় মিলবে বড় ছাড়

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ ডেস্ক

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি রোধ এবং আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ প্যাকেজ ও একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা ঘোষণা করেছে সরকার। এখন থেকে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে মোট শয্যার ১০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এই শয্যাগুলোতে রোগীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সাধারণ চিকিৎসা সেবা পাবেন। একই সাথে ডেঙ্গু সংক্রান্ত বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষার (ইনভেস্টিগেশন) ব্যয়ের ৮০ শতাংশ বহন করবে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে রোগীর ব্যক্তিগত ওষুধ ও খাবারের খরচ নিজেকেই বহন করতে হবে।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও জাতীয় গাইডলাইন পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু রোগীদের আর্থিক চাপ কমাতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সাথে সমন্বয় করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সাধারণ ও নিম্ন-আয়ের মানুষ বেসরকারি হাসপাতালে কম খরচে উন্নত চিকিৎসা পাবেন। ডেঙ্গু চিকিৎসায় ওষুধের কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া ঠেকাতে এবং রোগীদের জরুরি চাহিদা মেটাতে দেশের প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ আইভি স্যালাইন মজুত রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোর স্যালাইন সরবরাহ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে।

চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ঢাকাসহ সারা দেশে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে বিশেষ কার্যকর ওষুধ ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সাথে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা হবে। বাসাবাড়ি, বহুতল ভবন বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ছাদ, আঙিনা কিংবা আশপাশে পানি জমে লার্ভা পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের (মোবাইল কোর্ট) মাধ্যমে তাৎক্ষণিক জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতিবছরই বাড়ে। সঠিক সময়ে মশক নিধন এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা না গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগ ও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ মাঠ পর্যায়ে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে ডেঙ্গুজনিত মৃত্যুহার এবং সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ