আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর গভর্নিং বডির ৩৫৬তম অধিবেশনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান সম্প্রতি দুটি নীতিগত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন। এই সভাসমূহে আউটকামস অব সেকটোরাল মিটিংস হেল্ড ইন দ্য সেকেন্ড হাফ অব ২০২৫ অ্যান্ড আদার সেকটোরাল অ্যাকটিভিটিস এবং প্রোমোশন অব দ্য ট্রিপার্টাইট ডিক্লারেশন অব প্রিন্সিপালস কনসার্নিং মাল্টিন্যাশনাল এন্টারপ্রাইজেস অ্যান্ড সোশ্যাল পলিসি অ্যান্ড রেসপনসিবল বিজনেস কনডাক্ট–সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচিত হয়। আইএলওর মহাপরিচালকও এই অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেন।
সভাগুলোর সিদ্ধান্তে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় অভিবাসী শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং তাদের শ্রমিক সুরক্ষা সংক্রান্ত নীতিমালা প্রবর্তনের বিষয়গুলোতে। আউটকামস অব সেকটোরাল মিটিংসের আলোকে অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক শ্রম নীতিমালা অনুসারে কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
অপর সভায় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি, সুষ্ঠু কাজের পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে MNE Declaration-এর সচেতনতা বৃদ্ধি ও বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই সিদ্ধান্তগুলোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্বশীল ও ন্যায়সঙ্গত ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উৎসাহিত করা হবে।
আইএলওর এই নীতিগত সভাসমূহে বাংলাদেশের সভাপতিত্ব আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দেশের সক্রিয় ও গঠনমূলক ভূমিকার প্রকাশ করে। নাহিদা সোবহানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ন্যায্য শ্রমনীতি, বহুজাতিক সংস্থার দায়িত্বশীল আচরণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ড উন্নয়নের ক্ষেত্রে দেশের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, আইএলওর এই সিদ্ধান্তসমূহের বাস্তবায়ন বাংলাদেশের শ্রম বাজারে বিশেষভাবে অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। এছাড়া, এটি দেশের আন্তর্জাতিক মঞ্চে দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক কূটনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আইএলওর মহাপরিচালক এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা সভায় বিভিন্ন দেশ থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জগুলো বিশ্লেষণ করেন এবং বৈশ্বিক শ্রমনীতি উন্নয়নের জন্য বাস্তবসম্মত পরামর্শ প্রদান করেন। এর ফলে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো আন্তর্জাতিক শ্রম নীতিমালার মান উন্নয়ন এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের দায়বদ্ধতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
এই সভার মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ও বহুজাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধি, শ্রমিকদের অধিকারের সুরক্ষা এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে নিজস্ব কৌশলগত অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।


