জাতীয় ডেস্ক
টানা ১৩ দিনের বিরতির পর রোববার (২৯ মার্চ) বিকেল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মুলতবি বৈঠক পুনরায় শুরু হয়েছে। বৈঠকটি ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার পর পবিত্র ঈদুল ফিতরসহ অন্যান্য সরকারি ছুটির কারণে ১৫ মার্চ বৈঠক মুলতবি করা হয়েছিল। এ কারণে এই প্রথম অধিবেশন ১৩ দিনের বিরতির পর পুনরায় বসেছে।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুনরায় বসা অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এ আলোচনায় সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অংশ নেবেন। পাশাপাশি মন্ত্রীরা তাদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব সম্পন্ন করবেন। অধিবেশনে জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ উত্থাপন এবং তা সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনার বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কার্য-উপদেষ্টা কমিটির পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, এই অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।
জাতীয় সংসদে গত ১২ মার্চ রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ প্রদান করেন। সংসদীয় রীতিতে প্রথম অধিবেশনের শুরুর দিকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় এবং আলোচনা শেষে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়। এই প্রক্রিয়া অনুযায়ী, পুনরায় বসা অধিবেশনের আলোচনাও রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর কেন্দ্রিত থাকবে।
এই অধিবেশন চলাকালে গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণ, সরকারি উদ্যোগ ও বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রভাব নিয়ে সংসদ সদস্যরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবেন। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতির ভাষণে উল্লেখিত বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়, সামাজিক কল্যাণ, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত নীতি ও উদ্যোগের বিষয়ে সংসদে যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে মতামত প্রদান করা হবে।
সংসদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে নীতি প্রণয়ন ও সরকারের পরিকল্পনার কার্যকারিতা মূল্যায়নের প্রক্রিয়া দৃঢ় হবে। আইনসিদ্ধ প্রক্রিয়া অনুসারে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর পরবর্তী বৈঠকে নতুন নীতিমালা ও সংসদীয় প্রস্তাবনা আনা হবে, যা জাতীয় বাজেট এবং সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচিতে প্রভাব ফেলতে পারে।


